Rajiv Kumar Update: পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরমহলে একের পর এক ভাঙনের ছবি সামনে এসেছে। দলের বহু শীর্ষ নেতা-সাংসদ ইতিমধ্যেই শিবির বদলেছেন। কেউ যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে, কেউ আবার এনসিপিআই-তে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ তথা প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক রাজীব কুমারকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি এবং পরে এনসিপিআই সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে দেখা যাওয়ায় সেই জল্পনা আরও উসকে উঠেছে।

রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, বিশেষ করে ‘জল জীবন মিশন’-এর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে বাংলার সাংসদদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল। সংসদ ভবন চত্বরে আয়োজিত সেই বৈঠকে বিজেপি ও এনসিপিআই সাংসদদের পাশাপাশি তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার এবং লোকসভার সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার।
বৈঠকের পরেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন রাজীব। সূত্রের দাবি, বৈঠক শেষে এনসিপিআই সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে তাঁকে আলাদা করে কথা বলতে দেখা যায়। পরে কাকলী নিজের সমাজমাধ্যমে বৈঠকের একটি ছবি পোস্ট করেন। যদিও তিনি স্পষ্ট করে জানান, বৈঠকের মূল বিষয় ছিল রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করা।
তবু রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, এই সাক্ষাৎ কি শুধুই সৌজন্য, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক ইঙ্গিত রয়েছে? কারণ, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই রাজীব কুমারকে তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মসূচিতে প্রায় দেখা যায়নি। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে সম্প্রতি একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চে উপস্থিত হয়ে সেই জল্পনায় কিছুটা হলেও ইতি টেনেছিলেন তিনি। কিন্তু মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই দিল্লির এই বৈঠক ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
প্রসঙ্গত, প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমারের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা সকলেরই জানা। ২০১৯ সালে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন তাঁর বাড়িতে সিবিআই অভিযান চালাতে গেলে প্রতিবাদে ধর্নায় বসেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তাঁকেই রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন মমতা। সেই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমারের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা সকলেরই জানা। ২০১৯ সালে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন তাঁর বাড়িতে সিবিআই অভিযান চালাতে গেলে প্রতিবাদে ধর্নায় বসেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তাঁকেই রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন মমতা। সেই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
{{/usCountry}}এদিকে বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল জানান, রাজ্যের প্রায় ২,৬০০ কোটি টাকার কেন্দ্রীয় বকেয়া দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি রাজ্যের পূর্তমন্ত্রীকে উন্নয়নমূলক কাজে সাংসদদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার পরামর্শ দেন।
লোকসভার সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল বলেন, তাঁর সংসদীয় এলাকার সাতটি বিধানসভায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে তিনি বৈঠকে সরব হয়েছেন। সেই দাবিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছেন। তবে রাজীব কুমার ও কাকলী ঘোষ দস্তিদারের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেই জানিয়েছেন।
রাজীব কুমার অবশ্য এখনও পর্যন্ত শিবির বদল বা রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে দিল্লির এই বৈঠককে ঘিরে শুরু হওয়া জল্পনা কতটা বাস্তব রূপ পায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।