প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের যুগেও সীমান্ত এলাকার পরিকাঠামোর গুরুত্ব কোনওভাবেই কমবে না। বরং ভবিষ্যতের যুদ্ধ এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তা, সুড়ঙ্গ, বিমানঘাঁটি ও বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গত বৃহস্পতিবার বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের (BRO) স্ট্র্যাটেজিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার কনক্লেভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, বর্তমানে সীমান্তে যে কৌশলগত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, তা আগামী এক থেকে দুই শতাব্দী ধরে ভারতের সভ্যতা ও উন্নয়নের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

রাজনাথ সিং বলেন, যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। অত্যাধুনিক অস্ত্র, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই সমস্ত আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের জন্য শক্তিশালী পরিকাঠামো অপরিহার্য। তাঁর কথায়, সামরিক শক্তি, নির্ভুল আক্রমণক্ষমতা এবং আধুনিক প্রযুক্তি যুদ্ধের ফল নির্ধারণ করলেও সেই শক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হলে সীমান্ত এলাকায় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
তিনি বিশেষভাবে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের কাজের প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বের অন্যতম কঠিন ভৌগোলিক অঞ্চলে যে গতিতে সংস্থা রাস্তা ও অন্যান্য প্রকল্প নির্মাণ করছে, তা সত্যিই নজিরবিহীন। তাঁর মতে, এই সাফল্য মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়েরই প্রতিফলন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পেরও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, লাদাখের উমলিং লা এবং অরুণাচল প্রদেশের সেলা টানেলের মতো প্রকল্প সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত অনেক সহজ করে দিয়েছে। এর ফলে শুধু সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাই উন্নত হয়নি, প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর দ্রুত মোতায়েন এবং রসদ পৌঁছে দেওয়াও অনেক বেশি সহজ হয়েছে।
স্বাধীনতার পর সীমান্ত এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নের যে গতি ছিল, তা দেশের প্রয়োজন এবং সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না বলেও মন্তব্য করেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করেছে এবং এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে দেশের কোনও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ নিজেকে মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।
{{/usCountry}}স্বাধীনতার পর সীমান্ত এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নের যে গতি ছিল, তা দেশের প্রয়োজন এবং সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না বলেও মন্তব্য করেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করেছে এবং এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে দেশের কোনও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ নিজেকে মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।
{{/usCountry}}তিনি আরও বলেন, একসময় যেসব সীমান্তবর্তী গ্রামকে দেশের ‘শেষ গ্রাম’ বলা হতো, এখন ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে সেগুলিকে দেশের ‘প্রথম গ্রাম’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু রাস্তা বা বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পর্যটন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে সীমান্ত অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
রাজনাথ সিংয়ের মতে, বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় যে রাস্তা, সেতু, সুড়ঙ্গ ও অন্যান্য কৌশলগত পরিকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, তা শুধু আজকের প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয়। এগুলি আগামী এক থেকে দুই শতাব্দী ধরে দেশের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
এই কনক্লেভে দেশের শীর্ষস্থানীয় পরিকাঠামো নির্মাণকারী সংস্থা, যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং শিল্প প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। সেখানে সীমান্ত এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত নির্মাণ কৌশল এবং ভবিষ্যতের কৌশলগত পরিকাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সীমান্ত পরিকাঠামো শক্তিশালী করা শুধু সামরিক প্রয়োজন নয়, বরং ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার অন্যতম প্রধান শর্ত।