RAW Chief in Bangladesh: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে নতুন করে স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন ভারতের গুপ্তচর সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (RAW)-এর প্রধান পরাগ জৈন। সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ডঃ এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। একই দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। ফলে RAW প্রধানের সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স বা DGFI-এর আমন্ত্রণে পরাগ জৈনের নেতৃত্বে চার সদস্যের ভারতীয় নিরাপত্তা প্রতিনিধিদল রবিবার ঢাকায় পৌঁছয়। প্রতিনিধিদলে RAW প্রধান ছাড়াও ছিলেন অশ্বিন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি এবং শৈবল রায় চৌধুরী। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
সফর চলাকালীন বাংলাদেশের একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গেও ভারতীয় প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সফর শেষে প্রতিনিধিদলটি নয়াদিল্লিতে ফিরে যায়। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি কূটনৈতিক সূত্র RAW প্রধানের সফরকে ‘রুটিন’ বলে বর্ণনা করেছে। ভারত ও বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের অংশ হিসেবেই এই ধরনের সফর হয় বলে ওই সূত্রের দাবি। দুই দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে মতামত ও তথ্য বিনিময় করা হয়ে থাকে।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সফরটির গুরুত্ব আলাদা করে দেখছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ব্যাপক ছাত্র আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা এবং বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। ঢাকার তরফে একাধিকবার তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি জানানো হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি আইনি বাধ্যবাধকতা ও প্রযোজ্য পদ্ধতি অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সফরটির গুরুত্ব আলাদা করে দেখছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ব্যাপক ছাত্র আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা এবং বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। ঢাকার তরফে একাধিকবার তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি জানানো হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি আইনি বাধ্যবাধকতা ও প্রযোজ্য পদ্ধতি অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত ৫ অগস্ট নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের আন্দোলনকে তিনি পরিকল্পিত ‘রেজিম চেঞ্জ’ বলে দাবি করেন এবং জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তাঁর এই মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ঢাকা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
যদিও ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না। অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল এবং শেখ হাসিনার বক্তব্যের কোনও মতামত ভারত সরকার সমর্থন করে না বলেও জানানো হয়।
এই আবহেই RAW প্রধানের ঢাকা সফর এবং তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক নতুন করে নজর কেড়েছে। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে এসেছে কি না, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নিরাপত্তা স্তরে যোগাযোগ ফের সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেই এই সফরকে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।