Elon Musk's Starlink: ভারতের ভৌগোলিক সীমানায় স্টারলিঙ্কের স্যাটেলাইট সিগন্যাল বা বিম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে; ফলে দেশের ভূখণ্ডে কোনও সশস্ত্র বা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর এই পরিষেবা ব্যবহারের সুযোগ নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক ইলন মাস্ক। ভারতের বাজারে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর চেষ্টা করছে স্টারলিঙ্ক। এর মধ্যেই ইলন মাস্কের এই মন্তব্য এলো। এর আগে ভারত নিয়ে স্টারলিঙ্কের পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।

২০২৪ সালে মণিপুরে এক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ডেরা থেকে একটি স্টারলিঙ্ক ডিশ ও রাউটার উদ্ধার করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী। ভারতে স্টারলিঙ্কের প্রবেশে বিলম্বের জন্য মাস্ক যখন 'কয়েকজন ধনকুবেরের' ওপর দায় চাপান, তখন 'দ্য মডার্ন হিমাচল' নামের একটি নিউজ পোর্টাল ঘটনাটির কথা নতুন করে তুলে ধরে। এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে তারা উল্লেখ করে, স্টারলিঙ্ককে অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িত। মণিপুরে স্টারলিঙ্ক ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনাই এর প্রমাণ।
কী বললেন ইলন মাস্ক?
স্পেসএক্স-এর টেলিকমিউনিকেশন শাখা হলো স্টারলিঙ্ক, যা উপগ্রহ-ভিত্তিক ব্রডব্যান্ড পরিষেবা দিয়ে থাকে। নিউজ পোর্টালটির সেই দাবির জবাবে 'ডজ ডিজাইনার' (DogeDesigner) নামের এক পরিচিত এক্স হ্যান্ডেল থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, ভারতে স্যাটেলাইট বিম বন্ধ থাকলে কোনও স্টারলিঙ্ক ডিভাইসই দেশের মাটিতে কাজ করতে পারে না। এই প্রেক্ষাপটে এক্সের একটি পোস্টের প্রত্যুত্তরে ইলন মাস্ক বিষয়টি খোলাসা করেন। এক্সে এক পোস্টে মাস্ক বলেন, ‘ভারতের ওপর স্টারলিঙ্কের স্যাটেলাইট বিম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সুতরাং দেশটিতে যে কোনও ব্যক্তি যে কোনও উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করেছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।’
তবে ভারতের মাটিতে কোনও স্টারলিঙ্ক ডিভাইস খুঁজে পাওয়ার অর্থ এই নয় যে সেটি দেশের মধ্যে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও মণিপুরে সেনার অভিযানের সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদের সঙ্গে স্টারলিঙ্ক চিহ্নিত ডিভাইস উদ্ধারের পর একই ধরনের দাবি খারিজ করেছিলেন ইলন মাস্ক। উল্লেখ্য, মণিপুরের সীমান্তবর্তী দেশ মায়ানমারে স্টারলিঙ্ক চালু রয়েছে। ভারতে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় থাকার প্রসঙ্গটি এখন নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে।
ইলন মাস্কের তোপ
{{/usCountry}}তবে ভারতের মাটিতে কোনও স্টারলিঙ্ক ডিভাইস খুঁজে পাওয়ার অর্থ এই নয় যে সেটি দেশের মধ্যে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও মণিপুরে সেনার অভিযানের সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদের সঙ্গে স্টারলিঙ্ক চিহ্নিত ডিভাইস উদ্ধারের পর একই ধরনের দাবি খারিজ করেছিলেন ইলন মাস্ক। উল্লেখ্য, মণিপুরের সীমান্তবর্তী দেশ মায়ানমারে স্টারলিঙ্ক চালু রয়েছে। ভারতে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় থাকার প্রসঙ্গটি এখন নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে।
ইলন মাস্কের তোপ
{{/usCountry}}স্টারলিঙ্ককে ভারতের বাজারে ঢুকতে কিছু গোষ্ঠী বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইলন মাস্ক। তবে তিনি সরসারি কোনও গোষ্ঠীর নাম করেননি। ডজ ডিজাইনারের একটি পোস্টের জবাবে মাস্ক বলেন, ‘ভারতীয় জনগণের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে কিছু অলিগার্ক আমাদের (স্টারলিংক) আটকে দিচ্ছেন। তারা কারা, তা আপনারা অনুমান করতে পারেন... এটি ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ।’ তবে মাস্কের অভিযোগের পরই বৃহস্পতিবার ভারত সরকার তা খারিজ করে দিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার জন্য ভারতে একটি ‘ন্যায্য ও বৈষম্যহীন’ অনুমোদন কাঠামো রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই ভারতের বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে স্টারলিঙ্ক। কিছু ক্ষেত্রে আইনি ছাড়পত্রও মিলেছে। কিন্তু এখনও ভারতে প্রবেশ করে উঠতে পারেনি মাস্কের এই কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট (স্যাটেলাইট ইন্টারনেট, সংক্ষেপে স্যাট-নেট) পরিষেবা। কবে ভারতীয় বাজারে করবে, তা-ও এখনও চূড়ান্ত নয়। মাস্কের মালিকানাধীন সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ স্টারলিঙ্ক সংক্রান্ত বিষয়ে একটি পোস্ট করা হয় ‘ডজ ডিজাইনার’ নামে এক হ্যান্ডল থেকে। সেখানে দাবি করা হয়, গত মার্চ পর্যন্তও ভারতের ১১ হাজারেরও বেশি গ্রামাঞ্চলে ৪জি পরিষেবা পৌঁছোয়নি। এ অবস্থায় ভারতে ‘স্টারলিঙ্ক’ প্রয়োজন বলে দাবি করেন ওই এক্স ব্যবহারকারী।