...
...
Next Story

Tarique Rahman’s government:বাংলাদেশ মিডিয়া দায়িত্বে বিতর্ক! ‘ভারত-বিরোধী’ পোস্ট ঘিরে প্রশ্নের মুখে দিল্লি-কলকাতার নিয়োগ

Tarique Rahman’s government: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির কথা কেন উল্লেখ করলেন ইউনূস, সেই প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যাল।

Published on: Jul 23, 2026, 21:35:56 IST
Advertisement

Tarique Rahman’s government: বাংলাদেশে তারেক রহমানের সরকার কী ভারতে এমন প্রেস সচিব নিয়োগ করছে যাদের মনে রয়েছে তীব্র ভারত-বিরোধী মনোভাব? নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস উইংয়ে মিনিস্টার (প্রেস) পদে সাংবাদিক মো. সাইদুর রহমানের নিয়োগের ঘোষণার পরই এমনই প্রশ্ন উঠছে। এখানেই শেষ নয়, সূত্রের খবর অনুযায়ী সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ জানতে পেরেছে যে, কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে উম্মে মারুফাকে মনোনীত করেছে ঢাকা। অভিযোগ, এই দুই ব্যক্তই তাঁদের উগ্র ভারত-বিরোধী ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত। ঘটনাচক্রে, সময়টা ছিল ২০২৪ সাল-যখন শেখ হাসিনা ঢাকায় ক্ষমতাচ্যুত হয়ে নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, তারপর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

মো. উম্মে মারুফা ও সাইদুর রহমান (সৌজন্যে টুইটার)
মো. উম্মে মারুফা ও সাইদুর রহমান (সৌজন্যে টুইটার)

১৯৭১ সালে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্মরণে বাংলাদেশ প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন করে। আর এই জয় সম্ভব হয়েছিল ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর নির্ণায়ক সামরিক পদক্ষেপের কারণে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক জয়ে ভারতীয় বীর জওয়ানদের 'আত্মত্যাগ ও নিঃস্বার্থ আত্মনিবেদনকে' স্মরণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দেন। তবে সেই বার্তাকেই কটাক্ষ করে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ত্যাগকে খাটো করেন সাইদুর রহমান। ভারত সরকারের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে তিনি 'উদ্ধত আচরণ' বলে আখ্যা দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিশানা করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, '১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার নামে হঠকারিতা করেছে ভারত। দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরকে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয় ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আমি বাংলাদেশি হিসেবে স্পষ্টভাবায় ঘোষণা দিচ্ছি যে, ১৯৭১ সাল আমাদের নিজেদের স্বাধীনতার যুদ্ধ। আমাদের গর্ব, অহংকার। লক্ষ লক্ষ শহিদের রক্ত ও মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা।'

তবে বাংলাদেশ সরকারের সূত্রগুলোর দাবি বিশ্বাস করলে বলতে হয়, কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) পদে যার নাম মনোনীত করা হয়েছে-যার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও বাকি, তিনি সাইদুর রহমানের চেয়েও বেশি উগ্র মনোভাবাপন্ন।উম্মে মারুফা, যিনি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম 'নিউজ২৪'-এর একজন সাংবাদিক, তাঁর নাম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজের বিতর্কিত পোস্টগুলোর সিংহভাগই মুছে ফেলেছেন। তবে 'নিউজ১৮'-এর হাতে আসা বেশ কিছু স্ক্রিনশট থেকে তাঁর তীব্র ভারত-বিরোধী মানসিকতার ছবি স্পষ্ট ধরা পড়েছে। ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ, তিনি বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের 'সেভেন সিস্টার্স' রাজ্যগুলি সম্পর্কিত বিতর্কিত মন্তব্য শেয়ার করেছিলেন। চিন সফরকালে শান্তিতে নোবেলজয়ী তথা বাংলাদেশের তৎকালীন শীর্ষ নেতা মহম্মদ ইউনূস ভারতের স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির কথা তুলে ধরে দাবি করেছিলেন যে, বাংলাদেশই নাকি সমুদ্রের 'একমাত্র অভিভাবক।'

তিনি বলেছিলেন,‘উত্তর-পূর্বে ভারতের সাতটি রাজ্য, যাকে সেভেন সিস্টার্স বলা হয়, তারা একটি স্থলবেষ্টিত দেশ, ভারতের স্থলবেষ্টিত অঞ্চল। তাদের সমুদ্রে পৌঁছনোর কোনও উপায় নেই। এই অঞ্চলে আমরাই সমুদ্রের দেখভাল করি। এটি একটি বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। এটা চিনা অর্থনীতির সম্প্রসারণের সুযোগ হতে পারে। পণ্য তৈরি করা, পণ্য উৎপাদন করা, পণ্য বাজারজাত করা, পণ্য চিনে আনা, বাকি বিশ্বের কাছে নিয়ে যাওয়া। এটি একটি প্রোডাকশন হাউস। এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগানো উচিত এবং বাস্তবায়ন করা উচিত।’ এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে একটি পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যাল। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির কথা কেন উল্লেখ করলেন ইউনূস, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। এক্সে সঞ্জীব সান্যাল লিখেছেন, ‘মজার বিষয় হলো, ভারতের সাতটি রাজ্য স্থলবেষ্টিত বলে চিনাদের কাছে প্রকাশ্যে আবেদন করছেন ইউনূস। চিনকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ভারতের সাতটি রাজ্য স্থলবেষ্টিত হওয়ার তাৎপর্য কী?’

এরপর ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর, শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচক তথা যুব-ভিত্তিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম 'ইনকিলাব মঞ্চ'-এর অন্যতম প্রধান মুখ শরিফ ওসমান হাদি ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাদি নিজেও চরম ভারত-বিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর দিনই উম্মে মারুফা-যাকে খুব শীঘ্রই কলকাতা থেকে বাংলাদেশের মিডিয়া সামলানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হচ্ছে-হাদির মৃত্যুকে স্মরণ করে ফেসবুকে লিখেছিলেন: 'মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য আছে, ভাই; সব মৃত্যু এক রকম হয় না।'

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe