Religion Minister of Bangladesh: বিগত কয়েকদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর অত্যাচারের মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে বাংলাদেশি মৌলবাদীরা। এই সুযোগে সেই দেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ছক কষা হচ্ছে, তৈরি করা হচ্ছে প্রেক্ষাপট। এই পরিস্থিতিতে বড় মন্তব্য করলেন সেই দেশের ধর্মমন্ত্রী কাজি শাহ মোফাজ্জাল হোসেন। তিনি বললেন, সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোনও ধরনের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে সরকার। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ভোটে জেতার পর থেকেই বাংলাদেশে ভুয়ো সব ভিডিয়ো ভাইরাল করে দাবি করা হচ্ছে, এপারে নাকি মুসলিমদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এই আবহে অনেক মৌলবাদী নেতারাই হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর হামলা চালানোর।

তবে বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী বলেন, তিনি ভারতকে শ্রদ্ধা করেন। তাঁর কথায়, 'ভারত বিশাল দেশ। তাদের আমি শ্রদ্ধা করি। কারণ, তারা গণতন্ত্রকে লালন করে। আমি আশা করব তারা তাদের দেশের সংখ্যালঘুদের আপন মনে করবে। তাদের নিরাপত্তা দেবে। সংখ্যালঘুদের নিজেদের মনে করে ব্যবস্থা নেবে। তবে আমি একটা কথা বলি, ভারতে কী হচ্ছে কী হচ্ছে না, সেটা বড় বিষয় নয়। ভারতে যদি ঘটে থাকে, তাই বলে বাংলাদেশে ঘটবে, এমনটা হতে দেওয়া যাবে না। তেমন প্রয়োজন বোধে করলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব, কিন্তু এখানে সংখ্যালঘুদের ওপর বা কোনও অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচার কিংবা নির্যাতান সহ্য করব না।'
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ভুয়ো সব ভিডিয়ো ভাইরাল করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইয়েমেন বা বাংলাদেশের নিজেরই ভিডিয়ো ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, মুসলিমদের বাড়িতে নাকি আগুন লাগানো হচ্ছে বা মাদ্রাসায় হামলা করা হচ্ছে। এই সব ভুয়ো ভিডিয়োর পর্দা ফাঁস হয়েছে ইতিমধ্যেই। তা সত্ত্বেও ঢাকায় মৌলবাদী সংগঠনগুলি ভারতের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে। ঢাকা থেকে ফের একবার শুরু হয়েছে ভারত বিরোধী স্লোগানের পালা। ভারত ভাগ করে দেওয়ার দাবি উঠেছে সেই দেশে। এরই সঙ্গে সেই দেশের সংখ্যালঘুদের শান্তিতে বাঁচতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দিচ্ছে ইসলামি কট্টরপন্থীরা। এই নিয়ে ঢাকার বায়তুল মোকারম জাতীয় মসজিদ থেকে শুরু করে শাহাবাগ চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিদিনই বিক্ষোভ সমাবেশ চলছে। আর এর জেরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ক্রমেই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।