...
...
Next Story

Remote Border Village gets Electricity: দুর্গম সীমান্তে বড় সাফল্য, প্রথমবার বিদ্যুতের আলো পেল ভারতের প্রত্যন্ত গ্রাম

১৭ জুলাই এই সাফল্যের কথা ঘোষণা করেন মিয়াও-বিজয়নগরের বিধায়ক কামলুং মোসাং। তিনি বলেন, অরুণাচল প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় আধুনিক পরিকাঠামো পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

Published on: Jul 18, 2026, 11:16:40 IST
Advertisement

Remote Border Village gets Electricity: অরুণাচল প্রদেশের অন্যতম দুর্গম সীমান্ত এলাকা চাংলাং জেলার বিজয়নগর অবশেষে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হল। দীর্ঘ কয়েক দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চালু হয়েছে ২×২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘সিরিট মাইক্রো হাইড্রো স্কিম’ (Sirit Micro Hydro Scheme)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সংযোগ পেল ভারতের অন্যতম বিচ্ছিন্ন সীমান্ত অঞ্চল বিজয়নগর। রাজ্য সরকারের মতে, এটি শুধু একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়, বরং সীমান্ত এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

১৭ জুলাই এই সাফল্যের কথা ঘোষণা করেন মিয়াও-বিজয়নগরের বিধায়ক কামলুং মোসাং।
১৭ জুলাই এই সাফল্যের কথা ঘোষণা করেন মিয়াও-বিজয়নগরের বিধায়ক কামলুং মোসাং।

১৭ জুলাই এই সাফল্যের কথা ঘোষণা করেন মিয়াও-বিজয়নগরের বিধায়ক কামলুং মোসাং। তিনি বলেন, অরুণাচল প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় আধুনিক পরিকাঠামো পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর কথায়, বহু বছর ধরে ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে পিছিয়ে থাকা বিজয়নগরের মানুষের জীবনে এই প্রকল্প নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

মিয়ানমার সীমান্ত লাগোয়া বিজয়নগর অঞ্চলটি ঘন অরণ্য ও দুর্গম পাহাড়ে ঘেরা। চারদিকে বিস্তৃত নামদাফা জাতীয় উদ্যান থাকায় এই এলাকায় যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে এখানে সড়ক, যোগাযোগ ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক পরিকাঠামোর অভাব ছিল। সেই কারণেই গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের কাছে ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

বিধায়ক মোসাং জানান, বিদ্যুৎ পৌঁছে যাওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। তাঁর মতে, বিদ্যুতের মাধ্যমে এই সীমান্ত অঞ্চল অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে যাবে।

রাজ্যের জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন দফতর এবং বিদ্যুৎ দফতরের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। স্থানীয় জলসম্পদকে কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা থেকেই ‘সিরিট মাইক্রো হাইড্রো স্কিম’-এর সূচনা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে এই প্রকল্প বাস্তব রূপ পেল।

প্রায় ১৪ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিজয়নগর সদর-সহ মোট আটটি গ্রামের প্রায় ১,৫০০-র বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এই গ্রামগুলি হল—দারা গাঁও, দাওদি, ফাপারবাড়ি, গাহরিগাঁও, হাজোলো, রামনগর, বুদ্ধমন্দির এবং বিজয়নগর সদর।

প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী চাওনা মেইনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিধায়ক কামলুং মোসাং। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও যাঁরা এই প্রকল্প সম্পূর্ণ করেছেন, সেই সমস্ত প্রকৌশলী ও সরকারি আধিকারিকদেরও তিনি অভিনন্দন জানান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাওয়া শুধু উন্নয়নের জন্যই নয়, কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সীমান্তবর্তী এলাকায় আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে উঠলে একদিকে যেমন স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়, তেমনি সীমান্ত এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক উপস্থিতিও আরও শক্তিশালী হয়। বিজয়নগরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছনো তাই অরুণাচল প্রদেশের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের সীমান্ত নীতির ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe