অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের মানচিত্রে বহু কিছু পাল্টেছে বলে একাধিক রিপোর্টে ইঙ্গিত মেলে। বেশ কিছু রিপোর্ট দাবি করেছে, জইশ-এ-মহম্মদ, হিজবুল মুজাহিদ্দিনের মতো পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন তাদের শিবির, পাকিস্তানের গভীরে আফগান ফ্রন্টিয়ারের দিকে খাইবার পাখতুনখোয়ায় তৈরির দিকে ঝুঁকেছিল। এদিকে, খবর, ২০০৮ মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদের লস্কর ই তৈবাকে ঘিরে। এই জঙ্গি সংগঠনের অন্দরে সদ্য বহু পদ-পরিবর্তন হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্র উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘নিউজ ১৮’।

পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রভিন্সের পাট্টোকি এলাকাকে ‘সিটি অফ ফ্লাওয়ার্স’ বলা হয়। পাকিস্তানের এই এলাকার ফুলের জনপ্রিয়তা রয়েছে বহু মুলুকে। অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ফুলের বাজার রয়েছে এখানে, বলে জানা যায়। লাহোর থেকে ৭৩ কিলোমিটার দূরের এই পাট্টোকি থেকে ফুল বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয় বলেও বহু রিপোর্ট দাবি করছে। বিভিন্ন রকমের ফুলের সম্ভার নিয়ে থাকা এই পাট্টোকিতেই জঙ্গিদের জন্য লস্কর ই তৈবার শিবির মরকজ ইয়ারমুকের উত্থান, বেশ তাৎপর্যবাহী বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই হাফিজ সইদের নেতৃত্বাধীন লস্কর-ই-তৈবার অন্দরে জঙ্গি নেতাদের পদ পরিবর্তন হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তারই মাঝে পাট্টোকিতে লস্করের মরকজ ইয়ারমুক হয়ে উঠেছে লস্কর জঙ্গিদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সেখানে দায়িত্বে এসেছে জঙ্গি ইমরান লিয়াকত ভাট্টি। বলছে গোয়েন্দা সূত্র। এমনই দাবি রিপোর্টে। জানা যাচ্ছে, হাফিজ সইদের নির্দেশেই দক্ষিণ পঞ্জাবের দায়িত্বে থাকা এই লিয়াকতকে নিয়ে আসা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এই পাট্টোকিতে কুখ্যাত জঙ্গি সাজিদ বাট্ট, সইফুল্লা কসুরি, কর্মকাণ্ডকে জোরদার করছে। তারা রিজিওনাল অপারেশনের দিকটি দেখছে।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী হাফিজ সইদ বর্তমানে গৃহবন্দি। তবে যেভাবে হাফিজ সইদের নির্দেশে তার সংগঠনে একের পর এক পদ পরিবর্তন হচ্ছে, বলে রিপোর্ট দাবি করছে, তাতে হাফিজকে নিয়ে ইসলামাবাদের ‘গৃহবন্দি’ দাবি নিয়ে উঠছে নানান প্রশ্ন।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী হাফিজ সইদ বর্তমানে গৃহবন্দি। তবে যেভাবে হাফিজ সইদের নির্দেশে তার সংগঠনে একের পর এক পদ পরিবর্তন হচ্ছে, বলে রিপোর্ট দাবি করছে, তাতে হাফিজকে নিয়ে ইসলামাবাদের ‘গৃহবন্দি’ দাবি নিয়ে উঠছে নানান প্রশ্ন।
{{/usCountry}}প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন, হাফিজের লস্কর-ই-তৈবা এই পদ পরিবর্তনে ব্যস্ত হল? এক গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ‘তার (হাফিজ সইদ) গৃহবন্দি থাকার বিষয়টি মূলত আন্তর্জাতিক নজরদারি,শেষ করে ‘ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স’ (FATF)-এর খতিয়ে দেখার মধ্যে পড়ে, তা এড়ানোর একটি কৌশল মাত্র এটা। অথচ সে পর্দার আড়াল থেকে সমস্ত কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া অব্যাহত রেখেছে।’ ওই প্রতিবেদন বলছে, গোয়েন্দা তথ্য থেকে আরও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, নিজেদের কার্যকলাপ আড়াল করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক মোড়ক হিসেবে ‘পাকিস্তান মারকাযি মুসলিম লিগ’-এর ওপর লস্কর-ই-তৈয়বার নির্ভরতা বাড়ছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এই সংগঠনটিকে রাজনৈতিক বৈধতা অর্জনের পাশাপাশি ওই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়ন ও সাংগঠনিক বিস্তারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।