ইরান বনাম ইজরায়েল যুদ্ধের মাঝে এবার হরমুজ প্রণালীর দ্বাররক্ষক হিসাবে পরিচিত ইরানের নৌসেনা প্রধান আলিরেজ়া তাংসিরি নিহত ইজরায়েলি হানায়। এর আগে, ইজরায়েলি হানায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনি থেকে শুরু করে একাধিক তাবড় নেতৃত্বের। ইরানের একের পর এক শীর্ষস্থানীয় নেতারা ইজরায়েলের ব়্যাডারে যে রয়েছেন, তা আগেই জানিয়েছে তেল আভিভ। এই অবস্থায় রয়টার্সের রিপোর্টের দাবি, ইজরায়েলের হিটলিস্টে থাকা দুই ইরানি নেতাকে লিস্ট থেকে সরাতে অনুরোধ করে পাকিস্তান। পাকিস্তানের এই অনুরোধ নাকি গিয়েছিল আমেরিকার কাছে। তারপর পাকিস্তান এখন দাবি করছে, পাকিস্তানের সেই অনুরোধ, ইজরায়েল মেনে নিয়েছে।
রয়টার্সকে পাকিস্তানের এক অফিশিয়াল জানিয়েছেন, ‘আমরা আমেরিকাকে জানিয়েছি যে, যদি ওই দুই নেতাকেও হত্যা করা হয়, তাহলে কথা বলার জন্য (যুদ্ধবিরতির আলোচনা) কেউ বেঁচে থাকবেন না। তখনই ইজরায়েলকে তা বলে আমেরিকা আর ইজরায়েল তা মেনে নেয়।’ প্রশ্ন উঠতেই পারে, এই দুই ইরানি নেতা কারা? জানা যাচ্ছে, এই দুই ইরানি নেতা হলেন ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাফ, অপরজন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি। জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এই ইরান যুদ্ধের মধ্যস্থতার আলোচনা হতে চলেছে। সেখানে আমেরিকা ও ইরান দুই দেশের প্রতিনিধিরা থাকতে চলেছেন। মার্কিন দেশ থেকে আসতে পারেন সেদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। ইরানের তরফে আরাঘাচির নাম শোনা যাচ্ছে।
এদিকে, রয়টার্সের রিপোর্ট বলছে, ওই পাকিস্তানি অফিশিয়ালের দাবি, ওই দুই ইরানি নেতাকে নিকেশ করার জন্য স্ট্রাইকের বন্দোবস্ত করে নিয়েছিল ইজলায়েল। তবে পাকিস্তান এতে নাক গলাতেই, ইজরায়েলের হিটলিস্ট থেকে নাকি আরাঘাচি ও কালিবাঘের নাম সরে যায়। এর আগে, একটি রিপোর্ট দাবি করে যে, ইজরায়েল কালিবাফ ও আরাঘাচিকে সাময়িক স্বস্তি নাকি দিয়েছে ইজরায়েল। তারপরই পাকিস্তানের এই দাবির রিপোর্ট আসে। তবে প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের দাবি, এখন কি ঘুরপথে মেনে নিচ্ছে ইজরায়েল? দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক কোন খাতে বইছে! নাকি মার্কিন চাপের মুখে পড়েই পাকিস্তানের দাবি মানার পথে হাঁটে ইজরায়েল? ইরান যুদ্ধের মাঝে এমন বহু কূটনৈতিক প্রশ্ন ঘুরপাখ খাচ্ছে।