পাকিস্তানের ইতিহাসে অভ্যুত্থান কোনও নতুন ঘটনা নয়! এমন এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে সঙ্গে নিয়ে চলতে থাকা পাকিস্তানে এবার সরকারের অন্দরে ক্ষমতার অলিন্দে ফের ফাটল ধরার খবর! সদ্য সেদেশের ইন্টিরিয়র মন্ত্রী তথা পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের চিফ, মহসিন নকভি দাবি করছেন, তিনি পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্নীতির মুখোশ খুলে দেবেন। নকভির দাবি, পাকিস্তানে সরকারের ব্যবস্থাপনার বহু অঙ্গ, যেমন সেদেশের বিচারপতি থেকে রাজনীতিবিদরা এই দুর্নীতিতে জড়িত। তাঁর দাবি পাকিস্তানের সরকারি ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে।

সম্পর্কের দিক থেকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষার সর্বেসর্বা হয়ে ওঠা সেদেশের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, মহসিন নকভির আত্মীয়। শোনা যায়, নকভির তুতো বোনের সঙ্গেই আসিম মুনিরের বিয়ে হয়েছে। এহেন নকভি স্বভাবতই আসিম মুনিরের খুবই ঘনিষ্ঠ। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের ক্ষমতার একটা বড় অংশ মুষ্ঠিগত করেছেন আসিম মুনির। সেই আসিম মুনিরের সঙ্গে সুসম্পর্কে থাকা নকভি সদ্য বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না পাকিস্তানের ইতিহাসে এমন কোনও বিশাল কেলেঙ্কারি কখনও ঘটেছে, যেখানে বিচারক, আমলা, রাজনীতিবিদ এবং ব্যাংকার—সবাই জড়িত ছিলেন।’ প্রসঙ্গত, দুর্নীতি নিয়ে কথা বলা নকভিকে ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ টি ২০ ট্রফি, জয়ী টিম ভারতকে না দিয়ে নিজের হাতে তা নিয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতেও দেখা গিয়েছিল একসময়। যারপর বহু নেটিজেনই তাঁকে ‘ট্রফি চোর’ আখ্যা দেন। তবে নকভি পাকিস্তানের দুর্নীতি নিয়ে বলতে গিয়ে বলছেন,‘একুশ বছর ধরে ঘুষের লেনদেন চলেছে এবং অনেকেই তা গ্রহণ করেছে। এর জন্য দায়ী প্রতিটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।’ যদিও এই দুর্নীতিতে কারা রয়েছেন, তাঁদের নাম প্রকাশ করেননি নকভি। এদিকে, পাক সংসদে নকভির সীমিত উপস্থিতিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শরিফের মন্ত্রিসভার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আসিফ খোয়াজা। আসিফ বলেন, ‘নকভি সাহেব, আপনার মন্ত্রক থেকেই ব্যবস্থার পরিবর্তন শুরু করুন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘উদাহরণস্বরূপ, পিসিবি-তে আমূল পরিবর্তন আনুন। ক্রিকেটপ্রেমীরা পিসিবির কার্যকলাপে সন্তুষ্ট নন।’
ইন্ডিয়া টুডে-র রিপোর্ট বলছে,বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে নাকভি সেনাবাহিনীর কোনও উল্লেখ করেননি, যা থেকে বোঝা যায় যে তাঁর মন্তব্যটি মূলত বেসামরিক প্রশাসনের বিরুদ্ধেই ছিল। গত কয়েক সপ্তাহে শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে নাকভির মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নকভি-মুনিরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই ছিল অন্যতম প্রধান কারণ যার ফলে মুনির সংঘাত চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার জন্য নাকভিকে তাঁর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। বালোচিস্তান থেকে শুরু করে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) পর্যন্ত ক্রমবর্ধমান নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখে বিশ্লেষকদের ধারণা, মুনির হয়তো নাকভির মতো কোনো অনুগত ব্যক্তিকে বড় কোনও রাজনৈতিক ভূমিকায় নিয়ে আসার মাধ্যমে নিজের প্রভাব আরও সুসংহত করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে আপাতত পাকিস্তানি রাজনীতি কোনদিকে যায়, সেদিকে তাকিয়ে বহু দেশের কূটনৈতিক মহল।
{{/usCountry}}ইন্ডিয়া টুডে-র রিপোর্ট বলছে,বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে নাকভি সেনাবাহিনীর কোনও উল্লেখ করেননি, যা থেকে বোঝা যায় যে তাঁর মন্তব্যটি মূলত বেসামরিক প্রশাসনের বিরুদ্ধেই ছিল। গত কয়েক সপ্তাহে শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে নাকভির মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নকভি-মুনিরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই ছিল অন্যতম প্রধান কারণ যার ফলে মুনির সংঘাত চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার জন্য নাকভিকে তাঁর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। বালোচিস্তান থেকে শুরু করে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) পর্যন্ত ক্রমবর্ধমান নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখে বিশ্লেষকদের ধারণা, মুনির হয়তো নাকভির মতো কোনো অনুগত ব্যক্তিকে বড় কোনও রাজনৈতিক ভূমিকায় নিয়ে আসার মাধ্যমে নিজের প্রভাব আরও সুসংহত করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে আপাতত পাকিস্তানি রাজনীতি কোনদিকে যায়, সেদিকে তাকিয়ে বহু দেশের কূটনৈতিক মহল।
{{/usCountry}}