...
...
Next Story

শেয়ার বাজারে খুচরো ট্রেডারদের অভিনব প্রতিবাদ! ‘নো ট্রেড ডে’ এবং ক্লোজিং অকশন সেশনের নতুন বিতর্ক

ট্রেডিং ব্যবস্থার ধারাবাহিক পরিবর্তন এবং বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খুচরো বিনিয়োগকারীদের এই যৌথ প্রতিবাদ ভারতীয় শেয়ার বাজারের ইতিহাসে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Published on: Aug 17, 2026, 18:08:35 IST
Advertisement

২০২৬ সালের ১২ অগস্ট ভারতের শেয়ার বাজারে এক নজিরবিহীন প্রতিবাদের দৃশ্য দেখা গেল। সেবি (SEBI) এবং স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর চালু করা নতুন ‘ক্লোজিং অকশন সেশন’ (CAS)-এর প্রতিবাদে দেশের ক্ষুদ্র ও খুচরো ট্রেডাররা (Retail Traders) স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘নো ট্রেড ডে’ (No Trade Day)-র ডাক দেন। শেয়ারের অফিশিয়াল সমাপনী মূল্য বা ‘ক্লোজিং প্রাইস’ নির্ধারণের নতুন নিয়ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি ছোট ট্রেডারদের স্বার্থ সুরক্ষার দাবিতেই এই বয়কট কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

শেয়ার বাজারে খুচরো ট্রেডারদের অভিনব প্রতিবাদ! ‘নো ট্রেড ডে’ এবং ক্লোজিং অকশন সেশনের নতুন বিতর্ক (Hindustan Times)
শেয়ার বাজারে খুচরো ট্রেডারদের অভিনব প্রতিবাদ! ‘নো ট্রেড ডে’ এবং ক্লোজিং অকশন সেশনের নতুন বিতর্ক (Hindustan Times)

ট্রেডিং ব্যবস্থার ধারাবাহিক পরিবর্তন এবং বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খুচরো বিনিয়োগকারীদের এই যৌথ প্রতিবাদ ভারতীয় শেয়ার বাজারের ইতিহাসে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১. কেন বয়কটের ডাক দিলেন খুচরো ট্রেডাররা?

শেয়ার বাজারে কেনাবেচা শেষ হওয়ার সময় বা সমাপনী মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বমানের করতে সেবি এবং এক্সচেঞ্জগুলো নতুন ‘ক্লোজিং অকশন সেশন’ চালু করে। তবে ক্ষুদ্র ও ডেরিভেটিভস ট্রেডারদের দাবি, এই নতুন ব্যবস্থার কারণে ট্রেডিং সেশনের শেষ মুহূর্তে শেয়ার মূল্যে চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন এই ব্যবস্থা চালুর পর সাধারণ ট্রেডিং সেশনের শেষ ১৫ মিনিটের লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে শর্ট-টার্ম ও অপশন ট্রেডারদের কাছে সমাপনী মূল্যের সামান্য তারতম্যও বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ফলে এই নিয়মের প্রাথমিক প্রয়োগে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করতেই এই একদিনের ট্রেডিং বয়কট বা প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২. ক্লোজিং অকশন সেশন (CAS) আসলে কী?

  • নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য: ৩ আগস্ট থেকে চালু হওয়া ক্লোজিং অকশন সেশনে আগের গাণিতিক গড়ের বদলে একটি নির্দিষ্ট নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতার সর্বোচ্চ ভলিউম ম্যাচ করিয়ে শেয়ারের সমাপনী মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
  • নিয়ামক সংস্থার বক্তব্য: সেবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নতুন এই নিলাম প্রক্রিয়ায় বাজার ম্যানিপুলেশন বা কারচুপির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং প্রাথমিক কয়েক দিনের ধাক্কা সামলে মিউচুয়াল ফান্ডসহ বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এই সেশনে বেড়েছে।

৩. বাজারের সমতা ও সাধারণ ট্রেডারদের দাবি

অন্যদিকে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো বড় ধরণের সংস্কারের প্রাথমিক পর্যায়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বাজারের দীর্ঘমেয়াদী স্বচ্ছতা বাড়াতে এই ধরণের পদক্ষেপ প্রয়োজন হলেও, সাধারণ ট্রেডারদের তা বুঝিয়ে বলার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

১২ অগস্টের ‘নো ট্রেড ডে’ শেয়ার বাজারকে থমকে না দিলেও, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যকার যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। ভারতীয় শেয়ার বাজারে খুচরো বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে একটি স্বচ্ছ, দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য বাজার গড়তে সেবি ও ট্রেডারদের মধ্যে আস্থার মেলবন্ধনই আগামী দিনের মূল চাবিকাঠি।

(মতামত ব্যক্তিগত)

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe