...
...
Next Story

Sheikh Hasina: ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের পাশে দাঁড়াতেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা

Sheikh Hasina: শেখ হাসিনা আরও বলেন, আওয়ামী লিগের নেতা ও কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও অত্যাচার করা হচ্ছে এবং তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে-এর শুরুটা করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস এবং বিএনপি সেটা চালিয়ে যাচ্ছে।

Published on: Sep 2, 2026, 12:07:47 IST
Advertisement

Sheikh Hasina: ক্ষমতায় ফেরার জন্য নয়, দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতেই তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান। হিন্দুস্তান টাইমস-কে এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও প্রবেশপথ পরে জানাবেন।

মানুষের পাশে দাঁড়াতেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা (HT_PRINT)
মানুষের পাশে দাঁড়াতেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা (HT_PRINT)

এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, তিনি নিজের দেশ ও মানুষের কাছে ফিরতে চান এবং সারা জীবন বিদেশে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। পাশাপাশি, বাংলাদেশের চিনের সঙ্গে বাড়তে থাকা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসিনা। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ যখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, সার ঘাটতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির মতো সমস্যায় রয়েছে, তখন ২.৩ বিলিয়ন ডলারে চিনের কাছ থেকে জে-১০সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের মাটিতে তাঁর দেওয়া সংবাদিক সম্মেলন কীভাবে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তাঁর দাবি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনীতি করবেন না বলে ২০০৭ সালে মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন। কিন্তু লন্ডনে গিয়ে তিনি রাজনীতি শুরু করেন। সেখান থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালান। এমনকী তাঁর মা খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তারেক রহমান বিএনপি'র কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন লন্ডনে বসে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জনসভা ও দলীয় বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। হাসিনা বলেন, 'আমাদের সরকার কখনও তাঁকে বাধা দেয়নি। আমি কী ব্রিটিশ সরকারকে আমার দেশের একজন পলাতক ব্যক্তিকে এ ধরনের সভা করা থেকে বিরত থাকতে বলেছি? আমি কখনও এমন অভিযোগ করিনি।'

বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমি আমার নিজের দেশে ফিরে যাচ্ছি, আমি বুঝতে পারছি না তিনি (তারেক রহমান) কেন এতে আপত্তি করছেন। তারা প্রত্যর্পণ চুক্তি নিয়ে কথা বলছেন। অথচ, আমি নিজের ইচ্ছায় আমার দেশে ফিরে যেতে চাই। আমি ফিরে যাবই। আমি কী সারা জীবন বিদেশে থাকতে পারি? আমাকে আমার দেশে, আমার আপনজনদের কাছে ফিরতেই হবে।' ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সত্য কথা বলার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট হয় না। তাঁর মতে, গণতন্ত্র দুর্বল হওয়া, উগ্রবাদের বিস্তার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়া এবং রাজনৈতিক প্রতিশোধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের কারণে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ভারতের নিরাপত্তা এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট অনির্দিষ্টকাল চলতে দেওয়া যায় না। তাই তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি তিনি পরে ঘোষণা করবেন। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লিগ সভাপতি দাবি করেন, তাঁর সরকারের সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। একই সময়ে মাথাপিছু আয় ৪৮২ ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৭৮৪ ডলারে উন্নীত হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২.২২ শতাংশে নেমেছে, শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে, দারিদ্র্য বেড়েছে এবং বিনিয়োগ কমেছে। একই সঙ্গে বেকারত্ব ও বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটও বেড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু আওয়ামী লিগের বিষয় নয়, এটি একটি জাতীয় সংকট। উন্নয়ন থেমে গেলে কর্মসংস্থান কমে যায়, আইনশৃঙ্খলা দুর্বল হলে মানুষের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মীদের বিষয়ে তিনি বলেন, দলের অনেক নেতা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং অনেকে বাংলাদেশে থেকেও আত্মগোপনে রয়েছেন। কারা কখন দেশে ফিরবেন, তা দলীয় আলোচনার মাধ্যমে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোকে ভিত্তিহীন দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ৬০০টির বেশি মামলা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। নিজের অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং মানুষের পাশে থাকার বিষয়।

আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লিগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান এবং দেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়নে দলটির বড় ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লিগ কোনও ভুল করে থাকলে জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে তার বিচার করতে পারে। জনগণই ঠিক করবে দলটি দেশের জন্য কী করেছে। ভারতের সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের এবং এটি তাঁর দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়। ঢাকার বর্তমান সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা নেই বলেও জানান তিনি। বিএনপি সরকার তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির চাপের মুখে রয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এ বিষয়ে বিএনপি বা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেই প্রশ্ন করা উচিত। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী অতীতে একসঙ্গে নির্বাচন করেছে। মহম্মদ ইউনূসও পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চিন থেকে বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট রয়েছে, কয়েকটি সার কারখানা বন্ধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে যুদ্ধবিমান কেনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি, তিস্তা প্রকল্প প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ভারতের সঙ্গে এ প্রকল্পে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছিল। তবে বর্তমান সরকার চিনের সঙ্গে কীভাবে প্রকল্পটি এগিয়ে নিচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বর্তমান টলটলায়মান অর্থনীতির কড়া সমালোচনা করেছেন হাসিনা। তাঁর দাবি, তাঁর আমলে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার যেখানে ৬.৮০ শতাংশ ছিল, তা এখন ২.২ শতাংশে নেমেছে। ৫৪ বছরে প্রথমবার শিল্পক্ষেত্রে নেতিবাচক বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। গ্যাসের অভাবে দেশের ৬টি সার কারখানার মধ্যে ৫টিই বন্ধ। এই চরম অর্থকষ্ট ও বিদ্যুৎ সংকটের মাঝেও ২.৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করে চিনা ‘জে-১০সিই’ (J-10CE) যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি তারেক সরকারকে নিশানা করেছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, 'এত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধবিমান কেনার এই বিলাসিতা কেন?'

ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাংলাদেশ ‘আরেকটি পাকিস্তানে’ পরিণত হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এটি কোনও আবেগপ্রসূত বক্তব্য নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। তাঁর দাবি, উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মাজার, দরগাহ ও ভাস্কর্যের ওপর হামলার ঘটনাগুলি প্রমাণ করছে দেশের আইনশৃঙ্খলা তলানিতে। বাংলাদেশে ধর্মীয় সহিংসতা ও উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক আবার শক্তিশালী হলে এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভারত, মায়ানমার, বঙ্গোপসাগর, আঞ্চলিক বাণিজ্য, অভিবাসন, নৌপথ এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

ভারতে তাঁর বর্তমান জীবনযাপন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ভারতের সরকার ও জনগণের কাছ থেকে সম্মান ও সহযোগিতা পাচ্ছেন এবং এজন্য কৃতজ্ঞ। তবে তাঁর মন পড়ে আছে বাংলাদেশে। তিনি প্রতিদিন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মী ও তাঁদের পরিবারের অবস্থা, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং তরুণদের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ রাখেন। বাংলাদেশের কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষ, তাঁদের মুখ, বাংলা ভাষা, সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এবং গ্রামবাংলার মাটিই তিনি সবচেয়ে বেশি অনুভব করেন। তিনি এমন একটি বাংলাদেশকে মনে করেন, যে দেশ ভয় নয়, আশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe