বাংলাদেশের রংপুরে গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারে ৪ জনের খুনের ঘটনায় ক্রমেই উত্তাপ চড়ছে। শনিবার সেদেশের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামে। রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে পরিষদ প্রশ্ন তোলে। এছাড়াও সংগঠনের দাবি, তারা বলেছে, বাংলাদেশে অতীতের ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে পত্রপত্রিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে সেদেশে ৪১টি (আংশিক) সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে হত্যা ৬টি, ধর্ষণ ২টি। মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ১০টি। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২ জন। এমনই শিউরে ওঠার মতো পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন পরিষদের সদস্যরা।

রংপুর হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশ পুলিশ সিদ্ধার্থ দাস নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। সদ্য সিদ্ধার্থের বাবা ও ভাইকে জেরা করতে পুলিশ তাঁদের থানায় ডাকে। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। রংপুর ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বাংলাদেশের এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘হত্যার শিকার চারজনের বাড়ির পাশেই অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের বাড়ি। স্পর্শকাতর ওই ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য তাঁর বাবা ও ভাইকে কয়েকবার ডিবি কার্যালয়ে আসতে বলা হয়েছিল। তাঁরা আসেননি। তাই বিকেলে তাঁদের নিয়ে আসা হয়।’
এদিকে, বাংলাদেশের বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মনে করে, একটি বিশেষ চক্র, হীন উদ্দেশ্য ও স্বার্থ চরিতার্থের জন্য এই গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের ৪ জনকে খুন করা হয়েছে। সংগঠনটি এই ঘটনায় পুলিশের বয়ান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বাংলাদেশের রংপুরের রাস্তায় এই খুনের প্রতিবাদের মিছিলে অংশ নেন অনেকে। সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রংপুরের হত্যাকাণ্ড শুধু স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে নয়, দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি তাদের দেশত্যাগে প্ররোচিত করছে। এছাড়াও সংগঠনের দাবি, এই খুনের ঘটনা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। হত্যাকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সংগঠনের নেতারা বলেন, অনতিবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সংসদে বিবৃতি দিতে হবে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি জানান তাঁরা। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে, বলে সংগঠনের দাবি। তাঁদের প্রশ্ন, খুন ঘিরে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে, ঘটনাকে কি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে?