Royal Bengal Tiger in Arunachal Pradesh: প্রায় দু’দশক পরে অরুণাচল প্রদেশের ডি’এরিং মেমোরিয়াল ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারিতে (ডিইএমডব্লিউএস) দেখা মিলল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের। পাশিঘাটের কাছে অবস্থিত এই অভয়ারণ্যে ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে বাঘের উপস্থিতির প্রমাণ হাতে পেয়েছেন বনকর্তারা। এই ঘটনাকে ঘিরে বনদফতর ও পশুপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছাস তৈরি হয়েছে।

বন দফতরের আধিকারিকরা জানান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংস্থা ‘অশোকা ট্রাস্ট ফর রিসার্চ ইন ইকোলজি অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট’ বা আট্রি-র প্রযুক্তিগত সহায়তায় পরিচালিত সাম্প্রতিক সমীক্ষার সময় বাঘের এই আলোকচিত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, ১৯৭৮ সালে নথিভুক্ত হওয়া ১৯০ বর্গ কিলোমিটারের এই অরণ্যে ২০০৫ সালে শেষ বার বাঘ থাকার নিশ্চিত প্রমাণ মিলেছিল। ২০০৭-০৮ পর্যন্ত পরোক্ষ প্রমাণ মিললেও ২০১৪ সালে ডব্লুডব্লুএফ যে বেসলাইন সার্ভে চালায়, সেখানে এই অরণ্যে ক্যামেরা ট্র্যাপে কোনও বাঘ দেখা যায়নি বা বাঘের পায়ের ছাপ থাকার কোনও প্রমাণ মেলেনি। সেই সময় বিশেষজ্ঞেরা জানিয়েছিলেন, এলাকায় চোরাশিকারিদের উপদ্রব এবং অবাধে পশু শিকারের কারণেই বাঘেরা এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছে বা হারিয়ে গিয়েছে।
তবে গত কয়েক বছর ধরে বন দফতর এবং স্থানীয় মানুষের যৌথ উদ্যোগে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অসমের জোনাই বনাঞ্চলে, অসম-অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে অভয়ারণ্যের কাছাকাছি কবু চাপরি এলাকায় পূর্ণবয়স্ক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের পায়ের ছাপ দেখতে পান বনকর্মীরা। এরপর থেকেই এলাকায় বাঘের উপস্থিতি নিয়ে আশা বাড়তে থাকে। ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার কেম্পি-ইটে বলেন, 'প্রায় ২০ বছর পর বাঘের ফিরে আসা প্রমাণ করে যে বাস্তুতন্ত্র এখনও শক্তিশালী রয়েছে। দীর্ঘদিনের সংরক্ষণ প্রচেষ্টা, বনকর্মী, ইকো-ডেভেলপমেন্ট কমিটি এবং স্থানীয় সংগঠনগুলির কাজের ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।' শুধু বাঘই নয়, সাম্প্রতিক সমীক্ষায় অভয়ারণ্যে বিপন্ন চাইনিজ প্যাঙ্গোলিন বা চিনা বনরুই এবং বিরলহিসপিড হেয়ার-এর উপস্থিতিও ধরা পড়েছে। ফলে এই অঞ্চলের পরিবেশগত গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিবেশবিদদের মতে, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের প্রত্যাবর্তন পর্যটনের ক্ষেত্রেও বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় এক পরিবেশকর্মীর কথায়, 'এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত সুখবর। বাঘ ফিরে আসায় পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে।' উল্লেখ্য, পূর্ব সিয়াং জেলার পাশিঘাট থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ডি’এরিং মেমোরিয়াল ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি। প্রায় ১৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই অভয়ারণ্যটি ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সিয়াং এবং শিব্যা নদী দ্বারা বেষ্টিত এই অঞ্চল বাঘ, চিতা, বুনো মহিষ এবং পরিযায়ী পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
{{/usCountry}}পরিবেশবিদদের মতে, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের প্রত্যাবর্তন পর্যটনের ক্ষেত্রেও বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় এক পরিবেশকর্মীর কথায়, 'এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত সুখবর। বাঘ ফিরে আসায় পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে।' উল্লেখ্য, পূর্ব সিয়াং জেলার পাশিঘাট থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ডি’এরিং মেমোরিয়াল ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি। প্রায় ১৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই অভয়ারণ্যটি ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সিয়াং এবং শিব্যা নদী দ্বারা বেষ্টিত এই অঞ্চল বাঘ, চিতা, বুনো মহিষ এবং পরিযায়ী পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
{{/usCountry}}