তিন দেশ সফরের শেষ পর্বে ব্রিটেনে পৌঁছলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস-এর প্রধান মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার লন্ডনে পৌঁছন তিনি। এর আগে আমেরিকা ও কানাডা সফর করেছেন তিনি। আরএসএস-এর শতবর্ষ উদযাপনকে সামনে রেখেই এই সফর। সপ্তাহান্তে ব্রিটেনে বসবাসকারী ভারতীয়দের এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার কথা ভাগবতের। তবে তাঁর লন্ডন সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
পাশে ১০০-র বেশি সংগঠন

ভাগবত লন্ডনে পৌঁছতেই তাঁর সফরকে স্বাগত জানিয়েছে ব্রিটেনের ১০০-র বেশি হিন্দু ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠন। হিন্দু কাউন্সিল ইউকে, হিন্দু ফোরাম অব ব্রিটেন, হিন্দু স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ ইউকে-সহ একাধিক সংগঠন যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। তাদের দাবি, আরএসএস একটি বড় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সমাজসেবা, স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, নেতৃত্বের বিকাশ এবং সামাজিক ঐক্যের জন্য সংগঠনটি কাজ করে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় দ্রুত সাহায্যে পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও আরএসএসের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছে সংগঠনগুলি।
পাঁচ পরিবর্তনের কথাও উঠে এসেছে
আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে ‘পাঁচ পরিবর্তন’-এর কথাও তুলে ধরেছে সমর্থক সংগঠনগুলি। সামাজিক সম্প্রীতি। পরিবারকে গুরুত্ব দেওয়া। নিঃস্বার্থ সেবা। পরিবেশ রক্ষা। এবং নাগরিক দায়িত্ব পালন। এই পাঁচ বিষয়কে সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ কনজ়ারভেটিভ সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যানও ভাগবতের বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন। সমাজমাধ্যমে তিনি জানান, আরএসএসের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাগবতের ভাবনা শুনে তিনি খুশি।
ব্রিটিশ সংসদে উঠল প্রশ্ন
তবে ভাগবতের সফর নিয়ে ব্রিটেনে সবাই একই মত পোষণ করছেন না। ব্রিটিশ ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাংসদ নাদিয়া হুইটমি এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, ভাগবতের সফর নিয়ে সরকারের নিরাপত্তা এবং চরমপন্থা সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী যথেষ্ট মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না।
{{/usCountry}}তবে ভাগবতের সফর নিয়ে ব্রিটেনে সবাই একই মত পোষণ করছেন না। ব্রিটিশ ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাংসদ নাদিয়া হুইটমি এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, ভাগবতের সফর নিয়ে সরকারের নিরাপত্তা এবং চরমপন্থা সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী যথেষ্ট মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না।
{{/usCountry}}ব্রিটিশ নিরাপত্তা প্রতিমন্ত্রী ড্যান জার্ভিসের জবাব, নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে সরকার মন্তব্য করে না। তবে ঘৃণা এবং হিংসা ছড়ায় এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নীতি সরকারের রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ব্রিটেনে প্রবেশ করতে চাওয়া প্রত্যেককেই অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়ম মানতে হয়।
আমেরিকাতেও বিতর্ক হয়েছিল
লন্ডন সফরের আগে আমেরিকায় ভাগবতের সফর নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গত মাসে নিউ ইয়র্কে ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে প্রায় ৫ হাজার মানুষ ছিলেন। তাঁর সফরের আগে আমেরিকার ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত একটি কমিশন আরএসএস সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বিবেচনার কথা বলেছিল। ভাগবতকে সরকারি স্তরে বিশেষ সুবিধা না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কয়েক জন মার্কিন সাংসদও ভাগবতের সফরের সমালোচনা করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, আরএসএস সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং হিংসাকে উৎসাহ দেয়। ভাগবতের পক্ষ অবশ্য এই অভিযোগ মানেনি।
নিউ ইয়র্কে কী বলেছিলেন ভাগবত?
নিউ ইয়র্কের অনুষ্ঠানে ভাগবত হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কোনও হিন্দু যদি মনে করেন ভারতে মুসলিমদের থাকা উচিত নয়, তা হলে তিনি প্রকৃত হিন্দু নন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নানা ধর্ম ও পথ থাকলেও শেষ লক্ষ্য এক। ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। প্রবাসী ভারতীয়দেরও নিজের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেন ভাগবত। তিনি বলেন, যে দেশে তাঁরা থাকেন, সেই দেশের প্রতি তাঁদের দায়িত্ব রয়েছে। এ বার লন্ডন সফরেও তাঁর বক্তব্যের দিকে নজর থাকবে। কারণ আমেরিকার পর ব্রিটেনেও তাঁকে ঘিরে সমর্থন এবং বিরোধিতা—দুই-ই দেখা যাচ্ছে।