...
...
Next Story

RSS Chief: কানাডায় মোহন ভাগবতের সফর নিয়ে দ্বন্দ্ব, RSS প্রধানের পাশে শতাধিক সংগঠন; ওদিকে আবার আপত্তি মার্কিন সংস্থার

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ১০০-র বেশি সংগঠন। চিঠিতে বলা হয়েছে, কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ভাগবতের প্রস্তাবিত সফরের গুরুত্ব রয়েছে। সংগঠনগুলির দাবি, কানাডায় হিন্দু ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লক্ষেরও বেশি।

Published on: Aug 20, 2026, 09:56:36 IST
Advertisement

আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের প্রস্তাবিত কানাডা সফর ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে তাঁকে কানাডায় ঢুকতে না দেওয়ার দাবি উঠেছে। অন্যদিকে শতাধিক কানাডীয় সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী ভাগবতের সফরের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। তাদের দাবি, কোনও ব্যক্তির প্রবেশাধিকার নিয়ে সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক চাপের ভিত্তিতে নয়, প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ১০০-র বেশি সংগঠন। (ANI)
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ১০০-র বেশি সংগঠন। (ANI)

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ১০০-র বেশি সংগঠন। চিঠিতে বলা হয়েছে, কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ভাগবতের প্রস্তাবিত সফরের গুরুত্ব রয়েছে। সংগঠনগুলির দাবি, কানাডায় হিন্দু ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লক্ষেরও বেশি।

এই সংগঠনগুলির মধ্যে রয়েছে কানাডা ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন, কানাডা ইন্ডিয়া গ্লোবাল ফোরাম, কানাডিয়ান আর্য সমাজ, ব্র্যাম্পটন হিন্দু সোসাইটি, হিন্দু সোসাইটি অব কানাডা, হিন্দু মিশন অব কানাডা, হিন্দু সভা টেম্পল এবং ভিএইচপি কানাডা-সহ একাধিক মন্দির ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

চিঠিতে মূলত একটি বিষয়েই জোর দেওয়া হয়েছে। তা হল, মোহন ভাগবতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি উঠছে, সেগুলির পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ আছে কি না, তা আগে দেখা হোক। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসায় উৎসাহ দেওয়া, ভয় দেখানো এবং অপরাধী বা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের মতো গুরুতর দাবি।

ভাগবতের সফর কানাডায় জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করবে—এই আশঙ্কারও বিরোধিতা করেছে সংগঠনগুলি। তাদের প্রশ্ন, আগে কি ভাগবত বা আরএসএস কানাডায় এমন কোনও ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যা সামাজিক অশান্তি তৈরি করেছে? এমন কোনও নির্দিষ্ট তথ্য কি রয়েছে, যার ভিত্তিতে বলা যায় তাঁর সফর জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে?

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়া ভাগবতকে প্রবেশ করতে না দিলে কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈষম্যের ধারণা তৈরি হতে পারে। এতে মনে হতে পারে, হিন্দুদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে অন্য সম্প্রদায়ের তুলনায় আলাদা মানদণ্ডে বিচার করা হচ্ছে।

সংগঠনগুলি কানাডার বহুত্ববাদ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনের চোখে সমতার কথাও তুলে ধরেছে। তাদের বক্তব্য, কানাডার হিন্দুদেরও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সংগঠন করার অধিকার এবং নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে।

তবে চিঠিতে এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ভাগবতের বিরুদ্ধে সমালোচনা বা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার কেউ অস্বীকার করছে না। সমস্যা হচ্ছে, প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে কোনও অতিথিকে দেশে ঢুকতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা।

সংগঠনগুলির একাংশ এ-ও সতর্ক করেছে যে, এই ধরনের প্রচার কানাডার কিছু হিন্দুর কাছে ‘অ্যান্টি-হিন্দু প্রেজুডিস’ বা ‘হিন্দুফোবিয়া’-র মতো বলে মনে হতে পারে। তবে তারা এটাও বলেছে, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা বা সংগঠনের বক্তব্যকে গোটা কানাডা বা গোটা হিন্দু সমাজের মত বলে দেখানো উচিত নয়।

আরএসএসের তরফে ভাগবতের সফরকে সংগঠনের শতবর্ষ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২৫ আগস্ট থেকে তাঁর আমেরিকা, কানাডা এবং ব্রিটেন সফরের কথা রয়েছে। নিউইয়র্কে ২৯ আগস্ট একটি অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

কিন্তু আমেরিকাতেও ভাগবতের সফর নিয়ে আপত্তি উঠেছে। মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন বা USCIRF তাঁর নিউইয়র্ক সফরের বিরোধিতা করেছে। কমিশনের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ দাবি করেছেন, আরএসএসের কিছু সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। কমিশনের সদস্য জিন মিলসও ভাগবতকে উচ্চপর্যায়ের সরকারি অভ্যর্থনা না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

USCIRF আরও বলেছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের দায়ে কোনও আরএসএস সদস্যের বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকলে মার্কিন সরকারের উচিত লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার কথা বিবেচনা করা। চলতি বছর সংস্থাটি আরএসএস-সহ কয়েকটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশও করেছিল। তবে USCIRF-এর সুপারিশ মার্কিন সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

ভারত অতীতে USCIRF-এর এমন মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। ২০২৫ সালে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক কমিশনের রিপোর্টকে ‘একপেশে’ বলে সমালোচনা করেছিল। নয়াদিল্লির বক্তব্য ছিল, ভারতের বহুত্ববাদী সমাজ সম্পর্কে USCIRF-এর মূল্যায়ন বাস্তব পরিস্থিতিকে ঠিকভাবে তুলে ধরে না।

ফলে মোহন ভাগবতের বিদেশ সফর এখন শুধু একজন নেতার যাত্রা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, অভিবাসন নীতি এবং জননিরাপত্তার প্রশ্ন। কানাডায় শতাধিক সংগঠন বলছে, প্রমাণ ছাড়া সিদ্ধান্ত নয়। অন্যদিকে মার্কিন কমিশন তুলছে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ।

আগামী দিনে তাই নজর থাকবে কানাডা সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়। ভাগবতের সফর ঘিরে তৈরি এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কতটা রাজনৈতিক এবং কতটা আইনি প্রশ্নে পরিণত হয়, সেটাই এখন দেখার।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe