Russia offers 5 S400s to India: অপারেশন সিঁদুরে দুর্দান্ত সাফল্যের পর ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হতে চলেছে। ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য আরও পাঁচটি S-400 ‘ট্রায়াম্ফ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। ভারতীয় বায়ুসেনার নতুন করে S-400 কেনার টেন্ডারের পর এই প্রস্তাব এসেছে।

রুশ প্রস্তাবটি এমন সময় সামনে এসেছে, যখন ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকও হয়েছে। সেখানে দুই নেতা প্রতিরক্ষা ও জ্বালানিসহ একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
ভারতের হাতে থাকা S-400-এর কার্যকারিতা অবশ্য ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তান থেকে আসা বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বলে দাবি করা হয়েছে। ভারতীয় পরিষেবায় S-400-এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুদর্শন’।
S-400-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হল এর দীর্ঘ পাল্লা। এই ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। এর ফলে শত্রু যুদ্ধবিমানকে নিজের আকাশসীমার অনেক দূর থেকেই মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ, শত্রুপক্ষের বিমান ভারতের সীমান্তের কাছে পৌঁছনোর আগেই তাদের উপর নজরদারি ও আঘাত হানার সুযোগ তৈরি হয়।
ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের প্রধান এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র একটি পডকাস্টে জানিয়েছিলেন, S-400 অপারেশন সিঁদুরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য দেখিয়েছে। তাঁর দাবি, একটি পাকিস্তানি নজরদারি বিমানকে প্রায় ৩১৪ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে ধ্বংস করা হয়েছিল। এটি সম্ভবত বিশ্বের দীর্ঘতম পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল কিলগুলির অন্যতম বলে তিনি উল্লেখ করেন।
{{/usCountry}}ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের প্রধান এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র একটি পডকাস্টে জানিয়েছিলেন, S-400 অপারেশন সিঁদুরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য দেখিয়েছে। তাঁর দাবি, একটি পাকিস্তানি নজরদারি বিমানকে প্রায় ৩১৪ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে ধ্বংস করা হয়েছিল। এটি সম্ভবত বিশ্বের দীর্ঘতম পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল কিলগুলির অন্যতম বলে তিনি উল্লেখ করেন।
{{/usCountry}}বর্তমানে প্রথম চুক্তির অধীনে ভারত পাঁচটি S-400 ইউনিট কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ২০১৮ সালে সেই চুক্তি সই হয়। ইতিমধ্যেই চারটি ইউনিট ভারতে পৌঁছে গিয়েছে। পঞ্চম এবং শেষ ইউনিটটিও শিগগিরই, নভেম্বরের মধ্যে, সরবরাহ হওয়ার কথা।
এর পরেই আরও পাঁচটি স্কোয়াড্রন নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারত। অপারেশন সিঁদুরে এই ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করেছে, তা দেখেই নতুন করে S-400 কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
নতুন চুক্তি হলে সরবরাহ শুরু হতে পারে চুক্তি সই হওয়ার প্রায় তিন বছর পর। নতুন ইউনিটগুলি ভারতের পশ্চিম ও পূর্ব সীমান্তে মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে দেশের ‘লেয়ার্ড এয়ার ডিফেন্স’ বা বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
অর্থাৎ, শত্রুর বিমান, ড্রোন বা অন্যান্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ভারতের হাতে আরও বেশি প্রতিরক্ষা স্তর থাকবে। বিশেষ করে একইসঙ্গে দুই দিকের সীমান্তে চাপ তৈরি হলে অতিরিক্ত S-400 ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধু S-400-এ সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে S-500 ‘প্রমিথিয়াস’ ব্যবস্থার যৌথ উৎপাদন নিয়েও আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি অত্যাধুনিক সুখোই-৫৭ই যুদ্ধবিমান, কিলো শ্রেণির সাবমেরিন, কালিবর ক্রুজ মিসাইল, ভোরোনেঝ স্ট্র্যাটেজিক আর্লি-ওয়ার্নিং রাডার এবং ‘সুপার সুখোই-৩০’ আপগ্রেড প্রকল্প নিয়েও সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, অপারেশন সিঁদুরে S-400-এর সাফল্য ভারতীয় আকাশ প্রতিরক্ষায় রুশ প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। এখন আরও পাঁচটি ইউনিট হাতে এলে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ঢাল যে আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হবে, তা বলাই যায়।