...
...
Next Story

Russia on India Buying Oil: ভারতের তেল কেনা নিয়ে আমেরিকাকে রাশিয়ার বার্তা- 'দিল্লি নিজের স্বার্থেই তেল কেনে'

এক সাক্ষাৎকারে আলিপভ বলেন, ভারত রাশিয়াকে সাহায্য করার জন্য তেল কিনছে না। দেশের নাগরিকদের কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। রুশ রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন রুশ তেল আমদানির কারণে ভারতকে ফের মার্কিন চাপ এবং সম্ভাব্য নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

Published on: Sep 6, 2026, 22:18:31 IST
Advertisement

রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে পশ্চিমি চাপ যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়িয়ে সরব হল মস্কো। ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার উদ্দেশ্য মস্কোকে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য অর্থ জোগানো নয়। ভারতের নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা, জাতীয় উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটাতেই এই আমদানি করা হয় বলে দাবি তাঁর।

রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে পশ্চিমি চাপ যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়িয়ে সরব হল মস্কো। (Bloomberg)
রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে পশ্চিমি চাপ যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়িয়ে সরব হল মস্কো। (Bloomberg)

এক সাক্ষাৎকারে আলিপভ বলেন, ভারত রাশিয়াকে সাহায্য করার জন্য তেল কিনছে না। দেশের নিজস্ব উন্নয়ন এবং নাগরিকদের কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। রুশ রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন রুশ তেল আমদানির কারণে ভারতকে ফের মার্কিন চাপ এবং সম্ভাব্য নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলির বিরুদ্ধে ‘সেকেন্ডারি’ নিষেধাজ্ঞা বা বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা চলছে। মার্কিন কংগ্রেসে রাশিয়া ও ইরানকে ঘিরে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবও উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি, রুশ জ্বালানি কেনাবেচা থেকে পাওয়া অর্থ মস্কোর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে এবং পরোক্ষ ভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে সাহায্য করে।

তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ মস্কো। আলিপভের বক্তব্য, পশ্চিমি দেশগুলি ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতার বদলে চাপ তৈরির পথ বেছে নিয়েছে। তাঁর দাবি, ভারতকে রাশিয়ার চেয়ে ভালো দামে তেল দেওয়ার মতো প্রস্তাব থাকলে যে কোনও দেশই তা দিতে পারত। কিন্তু তা না পেরে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, এটি ‘সৎ সহযোগিতা’র বদলে ‘চাপের কৌশল’।

নয়াদিল্লিও দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থান নিয়ে এসেছে। ভারতের বক্তব্য, বিদেশ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, মূল্য এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাই প্রধান বিবেচ্য। প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি চাহিদা মেটানো ভারতের কাছে অন্যতম বড় দায়িত্ব। ফলে কোনও একটি দেশের রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

সম্প্রতি ইউক্রেন সফরেও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। কিয়েভে তিনি বলেন, কোনও দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে কি না, তা দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান হবে না। যুদ্ধ শেষ করতে হলে প্রয়োজন আলোচনা, কূটনীতি এবং সমঝোতা। একইসঙ্গে ভারতের বিপুল জনসংখ্যার জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জয়শঙ্কর আরও বলেন, ইউক্রেনের দৃষ্টিভঙ্গিকে ভারত সম্মান করে, কিন্তু ভারতের নিজস্ব অবস্থান এবং জাতীয় স্বার্থকেও অন্যদের সম্মান করতে হবে। অর্থাৎ রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও ইউক্রেনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার পথেই হাঁটছে নয়াদিল্লি।

এদিকে রুশ তেল আমদানির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে কিছু ওঠানামাও দেখা গিয়েছে। তারপরও রাশিয়া ভারতের অন্যতম বড় অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী হিসেবে রয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের চাপ যতই বাড়ুক, এখনই মস্কোর সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য ছিন্ন করার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি ভারত।

সব মিলিয়ে রুশ তেল নিয়ে ভারত-মস্কোর অবস্থান যে যথেষ্ট সমন্বিত, আলিপভের বক্তব্যে তা ফের স্পষ্ট। একদিকে পশ্চিমের চাপ, অন্যদিকে ভারতের জাতীয় স্বার্থ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই জ্বালানি নীতি এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে নয়াদিল্লি। আর মস্কোর বার্তা স্পষ্ট- ভারতের প্রয়োজন থাকলে রাশিয়ার তেল সরবরাহ চলবেই।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe