Russia Sanction Bill Passed in US: রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও বড়সড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল পাশ করল আমেরিকার আইনসভা। বুধবার মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২৬২-১৫৯ ভোটে এই বিল অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে সেনেটের পর কংগ্রেসের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদনও মিলল। এবার বিলটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যাবে। ট্রাম্প আগেই জানিয়েছেন, তিনি এই বিলে সই করবেন।

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিকে আমেরিকার অন্যতম বড় আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন আইনে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতকে নিশানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং অন্যান্য শীর্ষ সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হবে। পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহণে ব্যবহৃত ট্যাঙ্কারগুলিকে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বলা হয়। এই জাহাজগুলির মাধ্যমে রাশিয়া তেল বিক্রি করে যে অর্থ পায়, তা কমিয়ে দেওয়াই নতুন নিষেধাজ্ঞার অন্যতম লক্ষ্য।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত বিষয় হল, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনে এমন দেশগুলির উপর অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছে। এই শুল্কের হার সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে রাশিয়ার বড় ক্রেতা ভারত ও চিনও ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে।
এই বিষয়টিই মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি করেছে। ইউক্রেনকে সমর্থন করা নিয়ে দুই দলের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য না থাকলেও, অনেক ডেমোক্র্যাট ট্রাম্পকে এতটা বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন।
{{/usCountry}}এই বিষয়টিই মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি করেছে। ইউক্রেনকে সমর্থন করা নিয়ে দুই দলের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য না থাকলেও, অনেক ডেমোক্র্যাট ট্রাম্পকে এতটা বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন।
{{/usCountry}}হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকস বিলটিকে ‘গভীরভাবে ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান আইনের ভাষা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ট্রাম্পের বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে যায়, অথচ রাশিয়া বা রাশিয়াকে সহযোগিতা করা দেশগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বাধ্যবাধকতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তবে রিপাবলিকানরা secondary tariff সংক্রান্ত ধারাগুলি সীমিত করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
অন্যদিকে, বিলের সমর্থকদের বক্তব্য, ইউক্রেনে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় রাশিয়ার উপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োজন। তাঁদের মতে, মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের উৎস দুর্বল করতে জ্বালানি বিক্রির উপর চাপ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও মার্কিন কংগ্রেসকে এই বিল পাশ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়ার উপর আরও বেশি চাপ তৈরি হলেই মস্কোকে আলোচনার টেবিলে আনার সম্ভাবনা বাড়বে।
নতুন আইনে রাশিয়ার সামরিক ব্যবস্থাকে সহযোগিতা করা বিদেশি সংস্থা ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও এতে রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প সাধারণত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের মতো বিষয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চান। সেই কারণেই এই বিলটি দীর্ঘ সময় ধরে আটকে ছিল। তবে এবার কংগ্রেসের দুই কক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর আইনটি কার্যকর হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
বিল কার্যকর হলে রাশিয়ার অর্থনীতি তো বটেই, রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ভারত ও চিনের মতো দেশগুলির জন্য পরিস্থিতি নজরে রাখার মতো হয়ে উঠছে। কারণ রাশিয়ার জ্বালানি কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে আমেরিকার নতুন শুল্ক নীতি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।