ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। এরই মাঝে এবার আমেরিকাকে পালটা হুঁশিয়ারি দিল রাশিয়া। মস্কোর বার্তা, ইরানের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মহলের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, ইরান ও রাশিয়া সম্প্রতি ওমান সাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরে যৌথ নৌমহড়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই আবহে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সম্প্রতি আল আরাবিয়া টেলিভিশনকে একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানে হামলা হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। অতীতেও ইরানের ওপর হামলা হয়েছে এবং আইএইএ'র তত্ত্বাবধানে থাকা পরমাণু স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে।

ল্যাভরভের বক্তব্য, ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলি হামলা কেবল আইএইএ এবং এনপিটিকে দুর্বল করেনি, বরং পারমাণবিক দুর্ঘটনার একটি বড় ঝুঁকিও তৈরি করেছিল। তিনি বলেন, 'আমাদের ইরানি মিত্রদের তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে পরিস্থিতি কমবেশি স্থিতিশীল। তবে পরমাণু স্থাপনায় হামলা হলে সেগুলির নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। আমি আবারও বলছি যে এই স্থাপনাগুলি আইএইএ-র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এগুলি স্পর্শ করা যায় না।' রুশ বিদেশমন্ত্রীর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের এই ধরনের কর্মকাণ্ড (ইরানে হামলা) শুধুমাত্র ঝুঁকি বাড়ায় না, আইএইএ'র শক্তিকেও দুর্বল করে দেয়।
অ্যাক্সিওসের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা রয়েছে বর্তমানে। আমেরিকার দু'টি বিমানবাহী রণতরী, শতাধিক যুদ্ধবিমান, এক ডজন যুদ্ধজাহাজ আছে ইরানের কাছাকাছি। ওপেন সোর্স ট্র্যাকিং দেখা গিয়েছে যে, ১৫০টিরও বেশি কার্গো ফ্লাইট অস্ত্র এবং গোলাবারুদ বহন করে নিয়ে গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে থাকা সৈনিকদেরও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সেখান থেকে। মার্কিন হামলা হলে ইরানের পালটা জবাবের আশঙ্কাতেই এই পদক্ষেপ আমেরিকা করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই আবহে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।