Independence Day 2026: ১৫ই অগস্ট। এই দিনটির গুরুত্ব আলাদা ভাবে ব্যক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নেই। ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে মধ্যরাতে ভারত পেয়েছিল স্বাধীনতা। এই বছর ৮০তম স্বাধীনতায় পা দিতে চলেছে দেশ। ইতিমধ্যে দেশজুড়ে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এই আবহে ভারতের আসন্ন স্বাধীনতা দিবস (Independence Day) উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) থেকে বিশেষ শুভেচ্ছা জানালেন রাশিয়ার মহাকাশচারীরা। তাঁদের হাতে ছিল ভারতীয় জাতীয় পতাকা।

সোমবার প্রচারিত এই শুভেচ্ছা বার্তায় রাশিয়ার ক্রু সদস্যরা ভারতের মহাকাশ খাতের অগ্রগতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে মহাকাশ গবেষণায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারির উপর জোর দিয়েছেন তাঁরা। একটি ভিডিও বার্তায় রুশ মহাকাশচারীরা ভারতকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মস্কো ও নয়াদিল্লির মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলে আসা সহযোগিতার কথা স্মরণ করার পাশাপাশি মহাকাশ অনুসন্ধানকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন রুশ মহাকাশচারীরা। ভারতের জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মহাকাশচারী পিয়োতর দুব্রভ (Pyotr Dubrov) বলেন, ‘প্রিয় বন্ধুগণ, আজ ভারত প্রজাতন্ত্র তার ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে।’
রাশিয়ান মহাকাশচারীরা স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে মানব মহাকাশযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের সঙ্গে যুক্ত করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এই বছরটি সোভিয়েত মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিনের (Yuri Gagarin) প্রথম মহাকাশ যাত্রার ৬৫ বছর পূর্তিকেও চিহ্নিত করে। শুভেচ্ছা বার্তায় রাশিয়ার কিংবদন্তি মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিনের ঐতিহাসিক ভারত সফরের ৬৫ বছর পূর্তিকে স্মরণ করা হয়, যা দুই দেশের মহাকাশ সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। গ্যাগারিন ১৯৬১ সালের নভেম্বরে ভারতে ভ্রমণ করেন। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বের এক প্রাথমিক প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হন। মহাকাশচারীরা ভারতের প্রশংসার করে বলেন, ‘মহাকাশ থেকে দেশটিকে সুন্দর দেখালেও পৃথিবীতে প্রকৃত বন্ধুদের আবাসভূমি হিসেবে এটি আরও বেশি সুন্দর।' রুশ মহাকাশচারীদের এই শুভেচ্ছা বার্তায় ভারত-রাশিয়ার দীর্ঘদিনের মহাকাশ সহযোগিতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় দুই দেশের সহযোগিতা বহু বছরের পুরোনো। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে ভারতীয় পতাকা হাতে রুশ মহাকাশচারীদের এই শুভেচ্ছা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীকী প্রকাশ হিসেবেও গুরুত্ব পেয়েছে।