রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশগুলির বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নিতে চলেছে আমেরিকা। মার্কিন সেনেটে নতুন একটি বিলের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৬০ জন সেনেটর। এই বিল আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা পাঁচটি বৃহত্তম ক্রেতা দেশের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবে ট্রাম্প প্রশাসন। এই তালিকায় ভারতের নামও রয়েছে। ফলে ভারতের জ্বালানি আমদানি এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

‘স্যানকশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৬’ নামে এই বিলটি শুক্রবার প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই বিলকে সমর্থন করেছেন। বিলটির অন্যতম সমর্থক রিপাবলিকান সেনেটর জন থুনে। বিলের সমর্থকদের দাবি, আগামী আগস্টের মধ্যেই এটি মার্কিন সেনেটে পাশ হতে পারে।
বিলে বলা হয়েছে, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস সবচেয়ে বেশি কেনে এমন পাঁচটি দেশের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যাবে। মার্কিন সেনেটরদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই পাঁচটি দেশ হল ভারত, চিন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজান। এছাড়াও যেসব দেশ রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত শুল্কের হার নির্ধারণ করবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর)।
তবে ইউরোপের কয়েকটি মিত্র দেশের জন্য এই বিলে বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। যেসব দেশের রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি রাশিয়ার মোট গ্যাস রফতানির ১৫ শতাংশের কম এবং যারা ধীরে ধীরে সেই আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। প্রতি ১৮০ দিন অন্তর কোন দেশ কত পরিমাণ রুশ জ্বালানি কিনছে, তার মূল্যায়ন করে তালিকা ও শুল্কের হার পুনর্বিবেচনা করার কথাও বিলে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া আমেরিকার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত নিম্নমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানির ক্ষেত্রেও ছাড় রাখা হয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রে এই বিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের জুন মাসে ভারত রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। আগের মাসের তুলনায় সেই আমদানি প্রায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ভারতের রুশ তেল আমদানির মূল্য ছিল প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ইউরো, যা রাশিয়ার মোট অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় ৩৬ শতাংশ। চিনের পর ভারতই বর্তমানে রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা।
{{/usCountry}}ভারতের ক্ষেত্রে এই বিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের জুন মাসে ভারত রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। আগের মাসের তুলনায় সেই আমদানি প্রায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ভারতের রুশ তেল আমদানির মূল্য ছিল প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ইউরো, যা রাশিয়ার মোট অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় ৩৬ শতাংশ। চিনের পর ভারতই বর্তমানে রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা।
{{/usCountry}}উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর মার্কিন সিনেটে যে বিলটি আনা হয়েছিল, সেখানে রুশ জ্বালানি কেনা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব ছিল। এবার সেই হার কমিয়ে ১০০ শতাংশ করা হয়েছে এবং শুধুমাত্র শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের ক্ষেত্রেই এই বিধান প্রযোজ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তবে বিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানও রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইলে জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে কোনও নির্দিষ্ট দেশের ক্ষেত্রে এই শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে মকুব করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে তাঁকে কংগ্রেসের কাছে সেই সিদ্ধান্তের যথাযথ ব্যাখ্যা ও যুক্তি পেশ করতে হবে। ফলে বিলটি পাশ হলেও ভারতের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানের উপর।