Putin on India: ফের ভারত বন্দনায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি ভ্লাদিমির পুতিন বললেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হলে তা সেই দেশগুলির জন্য বুমেরাং হবে। তাঁর বক্তব্য, ভারত সবসময় নিজের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাইরের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে না। সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন বলেন, ভারত একটি সার্বভৌম দেশ এবং প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদার বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা তার রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞা বা চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে তার প্রতিক্রিয়া দ্রুতই দেখা যাবে।

পুতিন আরও জানান, ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য দেশের সঙ্গে থাকলেও তা রাশিয়া-ভারত সম্পর্কের জন্য কোনও হুমকি নয়। তাঁর মতে, নয়াদিল্লি নিজের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয় এবং মস্কো সেই অবস্থানকে সম্মান করে। ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতারও প্রশংসা করেন পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু ক্রেতা-বিক্রেতার নয়, বরং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের উপরও ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, কৌশলগত সহযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। তিনি এ-ও স্পষ্ট করেন যে, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও মস্কো সেটিকে কখনও বিপদ হিসেবে দেখে না।
গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিয়ে ভারতের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে মার্কিন প্রশাসন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলির একাধিক নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার জ্বালানি রফতানির বাজারে পরিবর্তন আসে। সেই পরিস্থিতিতে ভারত রুশ তেলের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা হিসেবে উঠে আসে।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনার মাধ্যমে মস্কোর যুদ্ধ অর্থনীতিকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। এই কারণেই ভারতকে রুশ তেল আমদানি কমানোর জন্য বিভিন্ন সময়ে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। এই আবহেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বা চাপ প্রয়োগের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত উল্টে সেই দেশগুলির জন্যই ‘বুমেরাং’ হয়ে ফিরতে পারে। তাঁর মতে, ভারত একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়।
{{/usCountry}}ওয়াশিংটনের অভিযোগ, রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনার মাধ্যমে মস্কোর যুদ্ধ অর্থনীতিকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। এই কারণেই ভারতকে রুশ তেল আমদানি কমানোর জন্য বিভিন্ন সময়ে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। এই আবহেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বা চাপ প্রয়োগের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত উল্টে সেই দেশগুলির জন্যই ‘বুমেরাং’ হয়ে ফিরতে পারে। তাঁর মতে, ভারত একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, ভারতও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের আধিকারিকরা সম্প্রতি জানিয়েছেন, কোনও দেশের চাপ বা নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাকেই গুরুত্ব দিয়ে তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল পাওয়ার ফলে ভারত আমদানি খরচ কমাতে সক্ষম হয়েছে। সেই কারণে ভূরাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও নয়াদিল্লি নিজের স্বার্থ রক্ষার কৌশলেই এগোচ্ছে। পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই প্রেক্ষাপটেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।