চলমান ইরান যুদ্ধের আবহে ভারত-ইজরায়েল ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন উঠছে। বুধবার সর্বদলীয় বৈঠকেও এই একই প্রশ্ন উঠে এসেছিল। আর সেই প্রশ্নের উত্তরে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বললেন, 'ইজরায়েল অনেক যুদ্ধে আমাদের সহায়তা করেছে এবং তারা আমাদের প্রতিরক্ষা অংশীদার। তাদের থেকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমরা অনেক সাহায্য পাচ্ছি।' তবে কখন এবং কীভাবে ইজরায়েল সাহায্য করেছিল, তা স্পষ্ট করে জানানি জয়শঙ্কর। এরপর ইরান সম্পর্কে জশঙ্কর বলেন, তাদের সাথে ভারতের সম্পর্ক আগের মতোই রয়েছে। ইরানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণেই ভারতের ৪টি জাহাজকে তারা হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিতে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর।

সর্বদলীয় বৈঠকে এনসিপি-এসপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে এস জয়শঙ্করের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ইজরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে ভারতের কী লাভ? টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, আমেরিকা ভারতের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং সেখান থেকে আমরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পেয়ে থাকি। এছাড়া ইজরায়েলও প্রযুক্তি খাতে ভারতের অন্যতম অংশীদার। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা ছিল, ভারতকে যুদ্ধের সময় সাহায্য করে থাকে ইজরায়েল। এমনকী সদ্য মুক্তি পাওয়া বলিউড সিনেমা 'ধুরন্ধর'-এও একটি ডায়লগে পাক আইএসআই প্রধানকে 'অজয় সান্যাল' (অজিত ডোভালের থেকে অনুপ্রাণিত) বলেছিলেন, 'তোমার কী মনে হয়েছিল, ইজরায়েল আমাদের এই গোপন তথ্যটি দেবে না।' দীর্ঘদিনের জল্পনার থেকেই সেই ডায়লগ লেখা হয়েছিল বলে দাবি ছিল অনেকের। তবে সর্বদলীয় বৈঠকে কার্যত সেই কাল্পনিক ডায়লগকে সত্যি প্রমাণিত করলেন জয়শঙ্কর।
এদিকে জয়শঙ্করকে প্রশ্ন করা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে কেন ভারত নীরব ছিল? এর জবাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন জয়শঙ্কর। বিদেশমন্ত্রী জানান, আয়াতোল্লার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বার্তা লিখেছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি। এরই সঙ্গে জয়শঙ্করকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানের ওপর মার্কিন হামলার নিন্দা না করায় তাদের সাথে ভারতের সম্পর্ক কি খারাপ হয়ে যাচ্ছে না? জবাবে বিদেশমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরান হামলা চালিয়েছে। আমরা এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ, সেই সব দেশে প্রায় ৮০ লাখ ভারতীয় থাকেন। এই পরিস্থিতিতে ইরানের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে হামলা হয়েছে তা নিয়ে নিন্দা প্রকাশ করেছিলাম আমরা। কারণ, আমরা ভারতীয়দের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলাম।