চিনের সঙ্গে সীমান্তে বাড়তে থাকা সামরিক চাপের আবহে আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পথে ভারত। রাশিয়ার কাছ থেকে আরও পাঁচটি S-400 ‘ট্রায়াম্ফ’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেনার প্রক্রিয়া ফের গতি পেয়েছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দিল্লির কাছে ‘বিল অফ কোয়ান্টিটিজ’ বা BOQ প্রস্তাব পাঠিয়েছে মস্কো। এই প্রস্তাবে নির্মাণকাজ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর খরচের বিস্তারিত হিসাব রয়েছে। এখন সেই খরচ নিয়েই দু’দেশের মধ্যে দর কষাকষি শুরু হওয়ার কথা।

২০১৮ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকারের সঙ্গে রাশিয়ার চুক্তি অনুযায়ী পাঁচটি S-400 কেনার কথা ছিল। প্রায় ৫.৪৩ বিলিয়ন ডলারের সেই চুক্তির শেষ S-400 সিস্টেমটি চলতি বছরের নভেম্বরেই ভারতে পৌঁছনোর কথা। এর পরেই আরও পাঁচটি সিস্টেম কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া এগোবে।
তবে একই সঙ্গে একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে প্রতিরক্ষা মহল। রাশিয়ার কাছ থেকে দু’টি স্কোয়াড্রন SU-57 যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে ভারত এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সম্প্রতি রাশিয়ার পক্ষ থেকে পঞ্চম প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ভারতীয় বায়ুসেনা বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে মাত্র। চিনের পঞ্চম প্রজন্মের J-20 যুদ্ধবিমান তিব্বতের হোটান, লাসা এবং নিয়ঞ্চি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের দাবি, আরও পাঁচ স্কোয়াড্রন S-400 কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি বা CCS। তার আগে মস্কোর সঙ্গে খরচ চূড়ান্ত করতে হবে এবং অর্থ মন্ত্রকের সবুজ সঙ্কেতও প্রয়োজন। নতুন পাঁচটি S-400-এর মধ্যে পঞ্চম সিস্টেমটি চিন সীমান্তমুখী ভারতের পূর্বাঞ্চলে মোতায়েন করা হতে পারে।
২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় S-400-এর কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের ভূখণ্ডের প্রায় ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে একটি পাক আর্লি ওয়ার্নিং বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল S-400-এর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। পাকিস্তানের হামলার জবাবে ভারতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়েও জোরালো দাবি করা হয়।
{{/usCountry}}২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় S-400-এর কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের ভূখণ্ডের প্রায় ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে একটি পাক আর্লি ওয়ার্নিং বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল S-400-এর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। পাকিস্তানের হামলার জবাবে ভারতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়েও জোরালো দাবি করা হয়।
{{/usCountry}}অভিযোগ, S-400 মোতায়েন থাকা আদমপুর এবং ভুজ বিমানঘাঁটিতে কামিকাজে ড্রোন দিয়ে হামলার চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। তবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে পাক যুদ্ধবিমানগুলি সীমান্তের কাছাকাছি আসতে পারেনি বলেই দাবি ভারতীয় সূত্রের।
এমনকি ১০ মে-র হামলার পর পাকিস্তান তাদের বহু বিমান ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ ডুরান্ড লাইন সংলগ্ন ঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়ে যায় বলেও দাবি করা হয়েছে। ভারতীয় ব্রহ্মোস হামলায় পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত এবং S-400 ও আকাশ তীরের মতো ব্যবস্থার হাতে পাক যুদ্ধবিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি সামনে আসে।
এরই মধ্যে আগামী ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে BRICS শীর্ষ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সফর দু’দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় আরও গতি আনতে পারে। বিশেষ করে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি-সহ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।