Sanjay Raut on Delimitation Bill: লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। কেন্দ্রের এনডিএ সরকার আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল আনতে চলেছে। এই বিলের মাধ্যমে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে বিলটি নিয়ে বিরোধী শিবিরে এখনও ঐকমত্য তৈরি হয়নি। এদিকে বৃহস্পতিবার শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) সাংসদ সঞ্জয় রাউত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান রূপে বিলটি আনা হলে বিরোধীরা তার বিরোধিতা করবে। তবে বিরোধীদের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলি সরকার গ্রহণ করলে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা হতে পারে।

নাগপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সঞ্জয় রাউত বলেন, বিরোধী দলগুলি ডিলিমিটেশন বিলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেবে। তবে সরকার যদি বিরোধীদের মতামত ও সংশোধনীকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া' একসঙ্গে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন বিলটি নিয়ে বিরোধী জোটের মধ্যেই ভিন্নমত প্রকাশ্যে আসছে।
বুধবার এনসিপি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী)-র কার্যকরী সভাপতি সুপ্রিয়া সুলেও একই ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যদি দেশের সব রাজ্যে সমানভাবে ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করার বিশেষ কারণ থাকবে না। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'-র শরিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করেই। ফলে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে বিরোধী শিবিরে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে।
কেন্দ্র সরকার আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিলটি পাস হলে লোকসভার আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং তার ভিত্তিতে নতুন করে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আসন পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শুরু হবে। দীর্ঘদিন ধরেই এই ইস্যু নিয়ে দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্য উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলির রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের যুক্তি, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন। তবে বিরোধী দলগুলির দাবি, শুধু জনসংখ্যাকে ভিত্তি না করে রাজ্যগুলির উন্নয়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য এবং সাংবিধানিক ভারসাম্যের বিষয়গুলিও বিবেচনায় রাখা উচিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, ডিলিমিটেশন বিল শুধু লোকসভার আসন বৃদ্ধি নয়, ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতির ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে এই বিলকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, কেন্দ্রের যুক্তি, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন। তবে বিরোধী দলগুলির দাবি, শুধু জনসংখ্যাকে ভিত্তি না করে রাজ্যগুলির উন্নয়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য এবং সাংবিধানিক ভারসাম্যের বিষয়গুলিও বিবেচনায় রাখা উচিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, ডিলিমিটেশন বিল শুধু লোকসভার আসন বৃদ্ধি নয়, ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতির ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে এই বিলকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
{{/usCountry}}