নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে দেশ জুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি। দিল্লিতে যন্তর মন্তরে চলছে সিজেপির তীব্র প্রতিবাদ, অনশনে থেকে হাসপাতালে ভর্তি সোনাম ওয়াংচুক। সদ্য ককরোচ পার্টির সংসদ অভিযান ঘিরে দিল্লির রাস্তায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়, স্লোগান উঠেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের। এরই মাঝে উঠে এল ২০২৪ সালের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডের তদন্তের ঘটনা।

২০২৪ সালের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে কিংপিন হিসাবে অভিযুক্ত ছিলেন সঞ্জীব মুখিয়া। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে সঞ্জীব মুখিয়াকে সিবিআই ক্লিনচিট দিয়েছে। সিবিআই-র তরফে জানানো হয়েছে, তাদের কাছে এমন কোনও প্রমাণ নেই যার জেরে সঞ্জীব মুখিয়ে, প্রশ্ন চুরিতে বা তা অবৈধভাবে বিতরণে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা যায়। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বিহার পুলিশনিট-ইউজি প্রশ্নপত্র চুরির বিষয়টি শনাক্ত করে এবং এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করে। সিবিআই-র তরফে এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘সেই পর্যায়ে সঞ্জীব কুমার ওরফে সঞ্জীব মুখিয়ার বিরুদ্ধে প্রাথমিক সন্দেহের সৃষ্টি হয়,যিনি এই চুরির ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছিল,কারণ এর আগে প্রশ্নপত্র চুরি বা ফাঁস সংক্রান্ত অন্য কয়েকটি ঘটনায় তাঁর নাম উঠে এসেছিল। সেই অনুযায়ী, বিহার পুলিশ এফআইআর-এ তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করে।’
পরে সেই কেসের তদন্তভার যায় সিবিআইর হাতে। তদন্ত চলাকালে এজেন্সি, প্রশ্নপত্র চুরি ও তা পরবর্তী পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ‘প্রত্যেকটি ব্যক্তি’ এবং এর সুবিধাভোগী প্রত্যেককে শনাক্ত করেছে। সিবিআই বলছে, তদন্ত চলাকালীন, ২০২৪ সালেরনিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চুরি বা তা ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সঞ্জীব কুমার ওরফে সঞ্জীব মুখিয়ার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করার মতো কোনও তথ্য-প্রমাণ সিবিআই পায়নি। সিবিআই জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সময়ে সঞ্জীব মুখিয়া পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে বিহার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এফআইআর-এ নাম থাকা অভিযুক্ত হওয়ায়, নিট-ইউজি ২০২৪ মামলার তদন্তের প্রয়োজনে সিবিআই তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেয়। সিবিআই-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালীন এই মামলায় সঞ্জীব মুখিয়ার জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ পাওয়া না যাওয়ায় সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেনি। ফলে তিনি নিট-ইউজি ২০২৪ মামলায় জামিন পেয়েছেন সঞ্জীব। সিবিআই মামলায় জামিন পাওয়ার পরেও মুখিয়াকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকতে হয়েছে, কারণ বিহার পুলিশের তদন্তাধীন আরও কয়েকটি মামলায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন।