...
...
Next Story

Satya Nadella on AI: এআই দৌড়ে লাগাম চান মাস্ক-অল্টম্যানরাও, সত্য নাদেলার কী মত এই নিয়ে?

এক্স-এ একটি পোস্টে নাদেলা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, মানবতার উপকার না করলে এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এমন AI তৈরি করার কোনও মূল্য নেই। অর্থাৎ প্রযুক্তির ক্ষমতা যতই বাড়ুক, মানুষের নিরাপত্তা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই শেষ কথা হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

Published on: Sep 14, 2026, 10:22:22 IST
Advertisement

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন এবার সেই বিতর্কে মুখ খুললেন মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা। তাঁর বক্তব্য, AI উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়া নয়, বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এর গতিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত করা দরকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভবিষ্যতের অত্যন্ত শক্তিশালী AI বা ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ যেন মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিতর্কে মুখ খুললেন মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিতর্কে মুখ খুললেন মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা

এক্স-এ একটি পোস্টে নাদেলা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, মানবতার উপকার না করলে এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এমন AI তৈরি করার কোনও মূল্য নেই। অর্থাৎ প্রযুক্তির ক্ষমতা যতই বাড়ুক, মানুষের নিরাপত্তা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই শেষ কথা হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

AI অ্যালাইনমেন্ট বা মানুষের লক্ষ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আচরণকে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়েও জোর দিয়েছেন নাদেলা। তাঁর মতে, AI উন্নয়নে ‘deliberate pacing’ বা পরিকল্পিত ধীরগতি প্রয়োজন, যাতে নিরাপত্তার বিষয়গুলি যথাযথভাবে পরীক্ষা করা যায়। AI সিস্টেমের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের জন্য স্বাধীন মূল্যায়নকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও তিনি সমর্থন করেছেন।

এই বিতর্কের সূত্রপাত আরও জোরালো হয় অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেইয়ের বক্তব্যের পর। তিনি সতর্ক করেছিলেন, AI ক্ষমতা বাড়ার গতি অত্যন্ত দ্রুত হয়ে যাচ্ছে। তাই কোম্পানিগুলিকে উন্নয়নের গতি কিছুটা কমিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করার সুযোগ দেওয়া উচিত। আমোদেই স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নকারীদের AI ল্যাবে কর্মীদের মতো প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রস্তাবও দেন, যাতে বাস্তবে নিরাপত্তা নীতি কতটা মানা হচ্ছে, তা যাচাই করা যায়।

তবে নাদেলার বক্তব্য শুধু AI-এর গতি নিয়ে নয়, নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের AI কোনওভাবেই হাতে গোনা কয়েকটি সংস্থার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়। বিভিন্ন দেশ, শিল্পক্ষেত্র এবং শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি আরও বিস্তৃত AI পরিবেশ গড়ে তোলার পক্ষে তিনি সওয়াল করেছেন।

ক্লোজড এবং ওপেন-সোর্স—দুই ধরনের AI মডেলেরই বিকাশের সুযোগ থাকা উচিত বলেও মনে করেন নাদেলা। তাঁর আশঙ্কা, ব্যবসা এবং ব্যবহারকারীরা যদি কয়েকটি AI প্রদানকারীর উপর দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তাহলে প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা কমে যেতে পারে।

এর সঙ্গে ব্যবসায়িক তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। নাদেলা আগেই সতর্ক করেছিলেন, কোনও সংস্থা AI ব্যবহার করতে গিয়ে কার্যত দু’বার মূল্য দিতে পারে। প্রথমবার AI পরিষেবার জন্য, আর দ্বিতীয়বার নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ও ব্যবসায়িক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবস্থার মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। কোনও প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি প্রম্পট, সংশোধন, কাজের ধরণ এবং প্রতিক্রিয়া তার অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করতে পারে।

তাই সংস্থাগুলির নিজেদের ‘learning loop’ বা শেখার প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি বলে মনে করেন নাদেলা। AI মডেলের মধ্যে নিজেদের জ্ঞান যুক্ত করা এবং ব্যবহৃত মডেলের ‘model weights’-এর উপরও নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত বলে তাঁর মত। এর মাধ্যমে কোনও নির্দিষ্ট AI পরিষেবা প্রদানকারীর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

এদিকে মাইক্রোসফট নিজেদের প্রথম-পক্ষের MAI মডেলগুলির জন্য একটি ‘Code of Conduct’ প্রকাশ্যে পর্যালোচনার জন্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাদেলা। AI নিরাপত্তা নিয়ে শিল্পের স্বেচ্ছা প্রতিশ্রুতিকে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে AI নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের কেন্দ্র এখন শুধু ‘কত দ্রুত’ এই প্রযুক্তি এগোবে, তা নয়; বরং ‘কীভাবে নিরাপদে’ এগোবে এবং শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ থাকবে কার হাতে—সেই প্রশ্নও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks