সৌদি আরবকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পাকিস্তান। দুই দেশের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছিল, এক দেশের উপর হামলা হলে তা দুই দেশের উপরেই হামলা বলে গণ্য হবে। অথচ সেই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ গেল অন্তত ১২ জনের। আহত ৩০০-রও বেশি। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুই বাংলাদেশি নাগরিকও। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, সৌদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ঠিক কী করছে? ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কি শুধুই প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রচারে ব্যস্ত, নাকি বাস্তবে বিপদের মোকাবিলা করার ক্ষমতাও রয়েছে তাদের? তবে এই হামলায় পাকিস্তানি সেনার সরাসরি ব্যর্থতার প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। সৌদিতে পাক সেনার নির্দিষ্ট দায়িত্বও প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
রিয়াধে ভয়াবহ হামলা, মৃত দুই বাংলাদেশিও

শনিবার, ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবের অসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ৩০৯ জন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহতদের মধ্যে চার জন সৌদি নাগরিক। এ ছাড়া রয়েছেন বাংলাদেশের দুই নাগরিক এবং আমেরিকা, প্যালেস্টাইন, মিশর, জর্ডন, সিরিয়া ও সুদানের এক জন করে নাগরিক। ফলে এই হামলায় শুধু সৌদি আরব নয়, একাধিক দেশের মানুষ প্রাণ হারালেন। বিশেষ করে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
হামলার পরেই বিমানবন্দরের পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একাধিক বিমানকে অন্য বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে। উড়ান বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বহু যাত্রী। অসামরিক বিমানবন্দরে এমন হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিরক্ষা চুক্তি কোথায় গেল?
সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়ে কম প্রচার হয়নি। ২০২৫ সালে দুই দেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছিল। তার পর ২০২৬ সালের অগস্টে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে আরও একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়। সেই চুক্তি কার্যকর করার উদ্যোগও শুরু হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদিতে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু সেই সেনার সংখ্যা কত, কোথায় তাদের মোতায়েন করা হবে এবং ঠিক কী দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে পাকিস্তানি সেনা অংশ নেবে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।
{{/usCountry}}রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদিতে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু সেই সেনার সংখ্যা কত, কোথায় তাদের মোতায়েন করা হবে এবং ঠিক কী দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে পাকিস্তানি সেনা অংশ নেবে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।
{{/usCountry}}তা হলে প্রশ্ন উঠবেই, সৌদির নিরাপত্তা নিয়ে এত বড় বড় প্রতিশ্রুতির বাস্তব ফল কোথায়? যদি প্রতিরক্ষা চুক্তিই দুই দেশের নিরাপত্তার ঢাল হয়, তবে সৌদি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে এমন হামলা কী ভাবে হল? মুনিরের বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও তাই প্রশ্ন উঠছে।
হুথিদের হামলায় বাড়ছে উদ্বেগ
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এই হামলার জন্য ইরানের মদতপুষ্ট হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। তবে সর্বশেষ হামলার পর হুতিদের তরফে সঙ্গে সঙ্গে কোনও দায় স্বীকার করা হয়নি। এর আগে চলতি সপ্তাহে রিয়াধের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছিল তারা। সেই হামলায় তিন সৌদি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে আমেরিকা যোগ দেবে কি না, তা বিবেচনা করছেন।
সব মিলিয়ে, রিয়াধের হামলা সৌদির নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পাকিস্তান অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তার কার্যকারিতা কতটা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুই বাংলাদেশির মৃত্যু এই ঘটনার মানবিক দিকটিকেও সামনে এনেছে। এখন দেখার, মুনিরের বাহিনী প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা পালন করতে পারে, নাকি সৌদির নিরাপত্তা নিয়ে তাদের বড় বড় দাবিই শেষ পর্যন্ত প্রশ্নের মুখে পড়বে।