ইরান যুদ্ধে সদ্য প্রথম দফায় ব্যর্থ মধ্যস্থতার আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে পাকিস্তানে। এরপর আরও এক রাউন্ড আলোচনা হওয়ার কথা। এদিকে, রিপোর্ট বলছে, ইসলামাবাদের যে হোটেল সেরেনায় এই মধ্যস্থতার আলোচনা বসেছিল, তার বকেয়া বিল মেটানো নিয়ে মুখ পুড়েছে পাকিস্তানের! এরই মাঝে সৌদি আরবে ছুটে গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আর সেদেশ থেকে পাকিস্তান পেয়েছে নতুন ‘দান’ স্বরূপ আর্থিক সহায়তা! এদিকে, ইরান যুদ্ধের জ্বালানি সংকটের মাঝে বিপুল বিদ্যুৎহীনতায় ভুগছে পাকিস্তান।

ইরান যুদ্ধের মাঝে রুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। যে প্রণালী কার্যত এশিয়ার কাছে জ্বালানি পৌঁছনোর অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এদিকে, পাকিস্তান জুড়ে এলএনজির কমতি রয়েছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট বলছে, জ্বালানি সংকটে জেরবার পাকিস্তান দিনে দুই ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবে বলে ঠিক করেছে। এদিকে, রয়টার্সের রিপোর্ট বলছে, সেদেশে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট রক্ষণাবেক্ষণের গতিতে একটু রাশ টেনে ফার্নেস তেল নির্ভর বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদনে জোর দিচ্ছে। কার্যত গোটা পাকিস্তান বিদ্যুৎশক্তির কমতিতে এই গরমের মরশুমে কাহিল! এদিকে, আবার সদ্য সৌদি আরবের সফর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
এদিন সৌদির, সৌদি প্রেস এজেন্সির তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা ৫০০ কোটি ডলারের আমানতের মেয়াদ বাড়িয়ে এবং অতিরিক্ত ৩০০ কোটি ডলারের আমানত ঘোষণার মাধ্যমে দেশটির প্রতি তার অর্থনৈতিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে সৌদি আরব। সৌদির রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য চলমান বৈশ্বিক আর্থিক চাপের মধ্যে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা। স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তানে ইতিমধ্যে থাকা ৫ বিলিয়ন ডলারের আমানত এখন বর্ধিত সময়ের জন্য অব্যাহত থাকবে এবং নতুন করে ৩ বিলিয়ন ডলারের যোগান, সন্ত্রাসের আঁতুরঘর পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সহায়তার উদ্দেশ্য হল পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে, মুদ্রার স্থিতিশীলতা আনতে এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মুখে সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করা। প্রসঙ্গত, ইরান যুদ্ধের মধ্যস্থতার আলোচনা পাকিস্তানে প্রথম ধাপে হওয়ার পরই সৌদির তরফে পাকিস্তানের প্রতি এল এই বিপুল আর্থিক সাহায্য। উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে আমেরিকা, ইজরায়েলের যুদ্ধে ইরান সৌদির বহু মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করেছে। ফলত, সৌদি-ইরান সম্পর্ক বেশ তাৎপর্যবাহী। আর এই ইরানই হল পাকিস্তানের প্রতিবেশী। যে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের রয়েছে প্রতিরক্ষা চুক্তি। চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তান বা সৌদি আরব, দুই দেশের মধ্যে কোনও একটিতে তৃতীয় দেশ হামলা করলে, তা দুটির মধ্যে অপর দেশটিতে হামলার শামিল বলে পরিগণিত হবে। যদিও ইরান যুদ্ধে এর বাস্তবায়ন সেভাবে দেখা যায়নি!