...
...
Next Story

Saudi OpenAI Engineer Arrested: OpenAi-এর অফিসে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র বসানোর অভিযোগ, ধৃত সৌদি ইঞ্জিনিয়ার!

আমেরিকার বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ বছরের আলফোজানকে গত ৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। তার আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ওপেনএআইয়ের সান ফ্রান্সিসকোর দফতরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকঘরে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র খুঁজে পান সংস্থার কর্মীরা।

Published on: Oct 14, 2026, 09:18:45 IST
Advertisement

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় অন্যতম বড় সংস্থা ওপেনএআইয়ের অফিসে গোপনে কথোপকথন রেকর্ড করার যন্ত্র বসানোর অভিযোগ উঠল এক কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন সৌদি আরবের নাগরিক আবদুলরহমান আলফোজান। তাঁর বিরুদ্ধে সংস্থার সান ফ্রান্সিসকোর অফিসে গোপন অডিয়ো রেকর্ডিং যন্ত্র বসিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথাবার্তা শোনার চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছে আমেরিকার তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই। বিষয়টি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য। তদন্তের দিকে নজর রেখেছেন এফবিআইয়ের অধিকর্তা কাশ প্যাটেলও। তবে এখনও পর্যন্ত ওপেনএআইয়ের গোপন প্রযুক্তিগত তথ্য বা গ্রাহকদের তথ্য চুরি হওয়ার কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

কী ভাবে ধরা পড়লেন আলফোজান?

৩৫ বছরের আলফোজানকে গত ৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। (via REUTERS)
৩৫ বছরের আলফোজানকে গত ৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। (via REUTERS)

আমেরিকার বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ বছরের আলফোজানকে গত ৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। তার আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ওপেনএআইয়ের সান ফ্রান্সিসকোর দফতরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকঘরে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র খুঁজে পান সংস্থার কর্মীরা। যন্ত্রটি ঘরের একটি টেলিভিশনের পিছনে ইউএসবি সংযোগে লাগানো ছিল। বাইরে থেকে যাতে সহজে বোঝা না যায়, সে জন্য সেটিকে টিস্যু পেপারের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

তদন্তকারীদের দাবি, যন্ত্রটি ২৮ সেপ্টেম্বরের আশপাশে বসানো হয়েছিল। ওই ঘরে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, নতুন পণ্য তৈরির পরিকল্পনা, ব্যবসায়িক কৌশল এবং ভবিষ্যতের প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হত। ফলে সেখানে গোপনে কথাবার্তা রেকর্ড করার চেষ্টা কেন করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

লিঙ্কডইনে কী পাওয়া গেল?

ঘটনার পরে আলফোজানের পরিচয় নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বলে মনে করা একটি লিঙ্কডইন প্রোফাইলে ওপেনএআইয়ে কাজ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে মেটা এবং মাইক্রোসফটের মতো সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতার কথাও বলা হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার তালিকায় রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে এবং এমআইটির নাম। তবে এই প্রোফাইলের তথ্য স্বাধীন ভাবে যাচাই করতে পারেনি হিন্দুস্তান টাইমস। তাই তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্মজীবনের সব তথ্য এখনও নিশ্চিত নয়।

বিচার বিভাগের অভিযোগপত্রে আরও কিছু তথ্য রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অফিসের সিসিটিভি ফুটেজে বৈঠকঘরটির আশপাশে একাধিক বার আলফোজানকে দেখা গিয়েছে। অথচ সেখানে ঢোকার বা ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার অনুমতি তাঁর ছিল না বলে অভিযোগ।

এ ছাড়া, সংস্থার অন্য একটি ঘরে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ পাওয়া যায়। সেটির ভিতরে একই ধরনের আরও একটি রেকর্ডিং যন্ত্র ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। সংস্থার বিভিন্ন ঘর, বৈঠকের সময়সূচি এবং গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য খোঁজার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এই সব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।

কী বলছে ওপেনএআই এবং এফবিআই?

ওপেনএআইয়ের দাবি, নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ব্যবহার করেই গোপন যন্ত্রটির উৎস এবং সেটি কে বসিয়েছিলেন, তা শনাক্ত করতে সাহায্য পেয়েছে সংস্থা। এর পরেই বিষয়টি এফবিআইকে জানানো হয়। অভিযুক্ত কর্মীকে চাকরি থেকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।

এফবিআইয়ের অধিকর্তা কাশ প্যাটেল সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, সংবেদনশীল কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করার অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমেরিকার অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি রক্ষা করা তদন্তকারী সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আলফোজানের বিরুদ্ধে গোপনে কথোপকথন শোনার উদ্দেশ্যে ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই লক্ষ ডলার জরিমানা হতে পারে। আগামী ১৯ অক্টোবর তাঁর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে।

তবে এই ঘটনায় ওপেনএআইয়ের গোপন প্রযুক্তি, সোর্স কোড বা গ্রাহকদের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ মেলেনি বলেই জানিয়েছে সংস্থা। ফলে গোপনে রেকর্ডিংয়ের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কোনও তথ্য অন্য কারও কাছে পাঠানো হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। আদালতের শুনানি এবং তদন্তের পরেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks