ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর লাগাতার হামলায় চাপে সৌদি আরব। এবার সেই হামলা ঠেকাতে সরাসরি সৌদির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান ও তুরস্ক। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের আওতায় দুই দেশই দ্রুত নিজেদের সেনা ও সামরিক ক্ষমতা সৌদি আরবে পাঠাবে। সোমবার রিয়াধে জোটের জরুরি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
কী এই সিদ্ধান্ত?

সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে তৈরি হওয়া মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের আওতায় তিন দেশের নিরাপত্তাকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, একটি দেশের নিরাপত্তার উপর হামলাকে শুধু সেই দেশের সমস্যা হিসাবে দেখা হবে না। তিন দেশের যৌথ নিরাপত্তার উপর আঘাত হিসাবেই তা বিবেচনা করা হবে। এবার হুথি হামলার জেরে সেই চুক্তির সামরিক দিক বাস্তবে কার্যকর করার পথে এগোল তিন দেশ।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আল সৌদ জানিয়েছেন, জোটের জরুরি বৈঠকে তিন দেশের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি আরও জোরদার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সৌদির শহর, সাধারণ মানুষের পরিকাঠামো এবং অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা করেছে জোট। মক্কা এবং মদিনার মতো পবিত্র শহরকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
দ্রুত সৌদিতে যাবে সেনা
জোটের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও তুরস্ক প্রয়োজনীয় সেনা এবং সামরিক সরঞ্জাম সৌদি আরবে দ্রুত মোতায়েন করবে। এর জন্য ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে। একই সঙ্গে তিন দেশের মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি এবং সমন্বয় বাড়ানো হবে। লক্ষ্য একটাই, সৌদি আরবের উপর আসা হুমকির মোকাবিলা করা এবং জোটের যৌথ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো।
তবে কত জন সেনা পাঠানো হবে বা ঠিক কোন ধরনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সৌদিতে মোতায়েন করা হবে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোতায়েনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলির অনুমোদিত ব্যবস্থা এবং নিজস্ব আইন মেনেই কার্যকর হবে।
হুথি হামলা বাড়তেই পাল্টা প্রস্তুতি
{{/usCountry}}তবে কত জন সেনা পাঠানো হবে বা ঠিক কোন ধরনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সৌদিতে মোতায়েন করা হবে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোতায়েনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলির অনুমোদিত ব্যবস্থা এবং নিজস্ব আইন মেনেই কার্যকর হবে।
হুথি হামলা বাড়তেই পাল্টা প্রস্তুতি
{{/usCountry}}গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা বাড়ছে। ইয়েমেনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীও হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। সেই আবহেই সৌদি আরবকে সামরিক ভাবে শক্তিশালী করতে পাকিস্তান ও তুরস্কের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসাবে অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল নুমান মাহমুদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিন বছরের জন্য তিনি এই দায়িত্ব সামলাবেন। ফলে শুধু একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়, ধীরে ধীরে কার্যকর সামরিক জোটের চেহারা নিচ্ছে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের এই সমীকরণ।