নিটের প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে পরিচিতি তৈরি করা ককরোচ জনতা পার্টিতে এবার নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। দলের নতুন পদাধিকারীদের তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা যায়, জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং কো-কনভেনর আশুতোষ রাঙ্কার নাম নেই। এমনকি যন্তর মন্তরের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বিজেতা দাহিয়ার নামও নতুন তালিকায় দেখা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, জনপ্রিয় এই নেতাদের কি দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে?

নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন দেশজুড়ে নজর কেড়েছিল। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের পাশাপাশি সৌরভ এবং আশুতোষও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় এই দুই নেতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেও জানা যায়। বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের সময় তাঁদের সক্রিয়তা নজরে আসে।
সৌরভ দাস শুরু থেকেই দলের জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পেশায় সাংবাদিক হওয়ায় তাঁর বক্তব্যে ব্যঙ্গ, যুক্তি এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে তীক্ষ্ণ মন্তব্য তরুণদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করেছিলেন, সৌরভের আহ্বানেই তাঁরা যন্তর মন্তরের আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে আশুতোষ রাঙ্কা ছিলেন দলের কো-কনভেনর। আইআইটি কানপুরের প্রাক্তনী আশুতোষও আন্দোলনের সময়ে যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন। রাজস্থানে স্কুল পরিদর্শনের সময় আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে ঘিরে আরও চর্চা শুরু হয়। দলের আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তাও বাড়ছিল।
এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার ককরোচ জনতা পার্টির নতুন পদাধিকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে নতুন কয়েকজন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরনো পরিচিত মুখ সৌরভ, আশুতোষ এবং বিজেতা দাহিয়ার নাম তালিকায় দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই দলীয় কর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়, তাহলে কি জনপ্রিয় নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হল?
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার ককরোচ জনতা পার্টির নতুন পদাধিকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে নতুন কয়েকজন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরনো পরিচিত মুখ সৌরভ, আশুতোষ এবং বিজেতা দাহিয়ার নাম তালিকায় দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই দলীয় কর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়, তাহলে কি জনপ্রিয় নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হল?
{{/usCountry}}তবে আপাতত যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে বিষয়টি তেমন নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। বরং ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে নতুন করে কয়েকজনকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় মূলত নতুন পদাধিকারীদের নামই দেওয়া হয়েছে। ফলে আগের নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমন কোনও স্পষ্ট ঘোষণা নেই।
দলটি জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনকেও আরও বিস্তৃত করছে বলে মনে করা হচ্ছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের পর ককরোচ জনতা পার্টির পরিচিতি অনেকটাই বেড়েছে। সদস্য সংখ্যাও বাড়ছে। তাই নতুন মুখকে সামনে এনে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার কৌশল নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, আন্দোলন কিন্তু থেমে নেই। সোমবার ককরোচ জনতার তরফে জানানো হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেওয়া হয়েছিল, তার সবগুলি এখনও পূরণ হয়নি। সেই কারণেই আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ফের দিল্লির রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলের ঘোষণামতে, ৫ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া গেট থেকে দিল্লি পুলিশের সদর দফতর পর্যন্ত মিছিল হবে। নিটের প্রশ্নফাঁসের মতো বিষয় নিয়ে আরও জোরালো প্রতিবাদ গড়ে তোলাই লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
ফলে নতুন পদাধিকারীদের তালিকায় সৌরভ ও আশুতোষের নাম না থাকাকে ঘিরে জল্পনা তৈরি হলেও, আপাতত তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই। বরং নতুনদের সঙ্গে পুরনো নেতৃত্বকে নিয়েই সংগঠনকে আরও বড় করার চেষ্টা চলছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে এই জনপ্রিয় দুই নেতা ফের সামনে আসেন কি না, এখন সেদিকেই নজর।