...
...
Next Story

Saurav Das on SC in Mahua issue: মহুয়ার জন্য মন কাঁদল CJP-র সৌরভ দাসের, বিস্ফোরক সব মন্তব্য করে বসলেন সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে

সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক মাধ্যমে বিচারপতির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা কি চান মহুয়া মৈত্র গুলি খান? সাংবিধানিক আদালতের বিচারপতিদের কাছ থেকে এই ধরনের মন্তব্য ও বিচারিক মনোভাব প্রত্যাশিত কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

Published on: Aug 8, 2026, 08:53:22 IST
Advertisement

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের একটি আবেদনের শুনানিকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। একটি ফেসবুক পোস্ট সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলায় পুলিশের সামনে ভার্চুয়ালি হাজির হওয়ার অনুমতি চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহুয়া। ৭ অগস্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ। শুনানির সময় মহুয়ার আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বিচারপতি দত্তের মন্তব্য, রাজনীতিতে আসার পর ডিমে ভয় পাওয়ার কারণ কী, এর আগে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা তো বুক পেতে গুলি খেয়েছিলেন। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক মাধ্যমে বিচারপতির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। (ANI Video Grab)
সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক মাধ্যমে বিচারপতির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। (ANI Video Grab)

ঘটনার সূত্রপাত একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর থেকে। কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে ১৪ অগস্ট তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং সরাসরি হাজিরার পরিবর্তে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ।

মহুয়ার হয়ে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তিনি আদালতকে জানান, এর আগে নিজের নির্বাচনী এলাকার থানায় হাজিরা দিতে গিয়ে মহুয়ার দিকে ডিম ছোড়া হয়েছিল। ফের থানায় গেলে একই ধরনের হামলা বা ভিড়ের নিশানায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে ভার্চুয়ালি হাজিরার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

কিন্তু সেই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। শুনানির সময় বিচারপতি দত্ত প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনি একজন সাংসদ? রাজনীতিতে পা রাখার পর ডিমে ভয় কেন?’ এরপরই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাঁরা বুক পেতে গুলি খেয়েছেন। আদালতের এই মন্তব্যের পর মহুয়ার আইনজীবী আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেন।

এর পাশাপাশি, মহুয়ার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সৌরভ দাবি করেন, বাংলার বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই মন্তব্য নিন্দনীয়। মহুয়া মৈত্রের কোনও ক্ষতি হলে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে দায়ী থাকতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি কার্যকর গণতন্ত্রে এই ধরনের বিচারপতিদের পদত্যাগে বাধ্য করা বা তাঁদের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের মতো পদক্ষেপের কথাও বলেন CJP মুখপাত্র।

CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্ট কি এখন সবাইকে গুলি খাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলছে? বিরোধী নেতাদের নিয়ে সাংবিধানিক আদালতের বিচারপতিরা এমন মন্তব্য করলে সাধারণ মানুষের কাছে বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে কী প্রত্যাশা থাকবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ঘৃণাভাষণ সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট ২১ জুলাই মহুয়া মৈত্রকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সব ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিল। মহুয়ার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা ভিত্তিহীন ও মনগড়া অভিযোগের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেই মামলাতেই তদন্তের স্বার্থে পুলিশের সামনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe