সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রশংসায় সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ সায়নী ঘোষ। তাঁর দাবি, অমিত শাহ কখনও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে পিছিয়ে যান না। বরং বিরোধীরাই তাঁর জবাব শুনতে চান না। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাদল অধিবেশনের পুরো সময়জুড়ে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ ছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে নিয়মিত হাজির হচ্ছেন না এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না।

বৃহস্পতিবার কোনও নির্দিষ্ট আলোচনা ছাড়াই সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হয়ে যায়। অধিবেশনের কাজকর্ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সায়নী ঘোষ। তাঁর মতে, সংসদের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাংসদরা নিজেদের এলাকার সমস্যা, মানুষের দাবি এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সংসদে তুলে ধরার সুযোগ পান। কিন্তু এবারের অধিবেশনে সেই সুযোগ কার্যত নষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সায়নী বলেন, এ বারের অধিবেশন অত্যন্ত দুর্বল হয়েছে। বিরোধী দল যেভাবে বারবার হইচই ও বাধা তৈরি করেছে, তাতে সংসদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়েছে। একাধিক বিল পাস হলেও বিরোধীদের একটি বড় অংশ সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি দেশের পক্ষে যেমন ভালো নয়, তেমনই সংসদের মর্যাদার পক্ষেও কাম্য নয়।
এই প্রসঙ্গেই অমিত শাহকে তুলে ধরে বিরোধীদের আক্রমণ করেন সায়নী। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তাঁর কথায়, অমিত শাহ আগে বহুবার সংসদে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং প্রশ্ন থেকে পালিয়ে যাওয়ার নজির তাঁর নেই। বরং তিনি জবাব দিলে বিরোধীরাই অনেক সময় সেই জবাব শুনতে বা আলোচনায় থাকতে চান না বলে দাবি করেন সায়নী।
তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সংসদের বাদল অধিবেশনজুড়ে কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র সংঘাত দেখা গিয়েছিল। একাধিক ইস্যুতে বিরোধীরা আলোচনা দাবি করলেও হট্টগোল, স্থগিতাদেশ এবং মুলতুবির কারণে বহু সময় অধিবেশনের কাজ ব্যাহত হয়।
{{/usCountry}}তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সংসদের বাদল অধিবেশনজুড়ে কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র সংঘাত দেখা গিয়েছিল। একাধিক ইস্যুতে বিরোধীরা আলোচনা দাবি করলেও হট্টগোল, স্থগিতাদেশ এবং মুলতুবির কারণে বহু সময় অধিবেশনের কাজ ব্যাহত হয়।
{{/usCountry}}এদিকে পরিসংখ্যানও এ বারের অধিবেশনের অচলাবস্থার ছবি তুলে ধরেছে। পিআরএস লেজিসলেটিভ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালের পর লোকসভার সবচেয়ে কম কাজ হওয়া অধিবেশনগুলির মধ্যে এবারের বাদল অধিবেশন রয়েছে। লোকসভা তার নির্ধারিত সময়ের মাত্র ১৫ শতাংশ কাজ করতে পেরেছে বলে পিআরএস-এর হিসাব। ২০১৬ সালের শীতকালীন অধিবেশনের সঙ্গেও এই হার একই।
রাজ্যসভা তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো কাজ করলেও সেখানেও পরিস্থিতি খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। পিআরএস-এর হিসাবে, রাজ্যসভা নির্ধারিত সময়ের ৩৩ শতাংশ কাজ করেছে। যদিও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু পরে জানিয়েছেন, সরকারের হিসাবে লোকসভার উৎপাদনশীলতা ছিল ১৯ শতাংশ এবং রাজ্যসভার ৩৯ শতাংশ।
গত দুই দশকের ইতিহাস দেখলেও এবারের অধিবেশনের দুরবস্থা স্পষ্ট। ২০১০ সালের শীতকালীন অধিবেশনে লোকসভা নির্ধারিত সময়ের মাত্র ৫ শতাংশ কাজ করতে পেরেছিল। ২০১৩ সালের শীতকালীন অধিবেশনেও লোকসভায় ৮ শতাংশ এবং রাজ্যসভায় ১৯ শতাংশ কাজ হয়েছিল। ২০১৪ সালের বাজেট অধিবেশনেও অন্ধ্রপ্রদেশ বিভাজনকে কেন্দ্র করে তুমুল অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে সায়নী ঘোষের অমিত শাহ-প্রশংসা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সংসদ অচল থাকার দায় তিনি মূলত বিরোধীদের উপরই চাপিয়েছেন। এখন প্রশ্ন, আগামী অধিবেশনে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে সংসদ কতটা কার্যকরভাবে চলতে পারে।