তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পরিচয় ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে, তা আপাতত আরও দীর্ঘ হওয়ার ইঙ্গিত মিলল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া পৃথক গোষ্ঠীর মধ্যে দলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের দাবিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল মমতা শিবির। সোমবারের শুনানির পরও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে আগামী নির্বাচনগুলিতে কোন গোষ্ঠী পুরনো পরিচয় ও প্রতীক ফিরে পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙনের পর নির্বাচন কমিশন ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কমিশনের বক্তব্য ছিল, দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের দাবিদাওয়া নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরনো নাম ও প্রতীক কোনও পক্ষকেই দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য দুই শিবিরকে বিকল্প নাম ও প্রতীক বেছে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়। তাঁদের বক্তব্য, যে প্রতীক নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, দলীয় বিভাজনের কারণে আচমকা সেই প্রতীকের ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মমতা নিজেও প্রকাশ্যে কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন এবং এই পদক্ষেপকে অন্যায্য বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, প্রতীক ও দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ঋতব্রত শিবিরও নিজেদের দাবির পক্ষে কমিশনে একাধিক নথি জমা দিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন-সহ সাংগঠনিক ভিত্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল।
তবে এর মধ্যেই উপনির্বাচনের কথা মাথায় রেখে কমিশন দুই শিবিরের জন্য আলাদা নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী পেয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর নাম হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ হয়েছে ‘খাম’।
{{/usCountry}}তবে এর মধ্যেই উপনির্বাচনের কথা মাথায় রেখে কমিশন দুই শিবিরের জন্য আলাদা নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী পেয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর নাম হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ হয়েছে ‘খাম’।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতে সামনে থাকা উপনির্বাচনের পাশাপাশি পরবর্তী পুরভোট নিয়েও প্রতীক-জটের প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, পুরভোটের সময় যদি দলের পুরনো নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত আইনি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত না আসে, তা হলে প্রার্থিতা, প্রচার এবং ভোটারদের কাছে দলীয় পরিচয়—সব ক্ষেত্রেই নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে পুরসভা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কোন পরিস্থিতি থাকবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আদালতে চলা আইনি প্রক্রিয়ার উপর।
রাজনৈতিক ভাঙনের ফলে যে প্রতীক-সংকট তৈরি হয়েছে, তার সমাধান এখন আর শুধু দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নেই। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত, আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং আগামী নির্বাচনের সময়সূচি—এই তিনটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। ফলে জোড়াফুলের দাবিদার হিসেবে শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ স্বীকৃতি পাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।