...
...
Next Story

Human right handed leg evolution: বেশিরভাগ মানুষই কেন ডানহাতি? উত্তরটা লুকিয়ে ছিল পায়ের কাছে, খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

Human right handed leg evolution: পৃথিবীতে সিংহভাগ মানুষই ডানহাতি। যেকোনো কাজ নিখুঁতভাবে করার জন্য আমরা ডান হাতকে অগ্রাধিকার দিই। কিন্তু কেন এমন হল? উত্তর পেলেন বিজ্ঞানীরা।

Published on: Jun 03, 2026 12:40 PM IST
Advertisement

Human right handed leg evolution: মানব বিবর্তন ও আমাদের হাঁটাচলার অভ্যাসের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক চমৎকার রহস্য। আমরা সাধারণত কে ডানহাতি আর কে বাঁহাতি—তা নিয়ে অনেক চর্চা করি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এবার মানুষের পায়ের কার্যকারিতা এবং বিবর্তনের ইতিহাস নিয়ে এক নতুন তথ্য সামনে এনেছেন, যা আমাদের সোজা হয়ে দাঁড়ানো এবং হাঁটার ক্ষমতাকে এক নতুন আলোয় ব্যাখ্যা করে।

বেশিরভাগ মানুষই কেন ডানহাতি? উত্তরটা লুকিয়ে ছিল পায়ের কাছে
বেশিরভাগ মানুষই কেন ডানহাতি? উত্তরটা লুকিয়ে ছিল পায়ের কাছে

পৃথিবীতে সিংহভাগ মানুষই ডানহাতি। যেকোনো কাজ নিখুঁতভাবে করার জন্য আমরা ডান হাতকে অগ্রাধিকার দিই। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, হাতের মতো আমাদের পা দুটির মধ্যেও কি এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বিভাজন রয়েছে? বিজ্ঞান বলছে, শুধু হাত নয়, হাঁটাচলা এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও আমরা বেশিরভাগ মানুষই আসলে 'ডানপায়ো' বা ডান পায়ের ওপর বেশি নির্ভরশীল। পপুলার সায়েন্সে প্রকাশিত সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, মানুষের এই ডান পায়ের আধিপত্যের পেছনে রয়েছে কোটি কোটি বছরের বিবর্তন এবং আমাদের দুই পায়ে সোজা হয়ে হাঁটার (Bipedalism) এক অদ্ভুত ইতিহাস।

মস্তিষ্কের গঠন এবং শরীরের ভারসাম্য

বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের হাত ও পায়ের এই একমুখী ব্যবহারের মূল উৎস হলো আমাদের মস্তিষ্কের গঠন। আমাদের মস্তিষ্কের বাম গোলার্ধ (Left Hemisphere) শরীরের ডান দিকের অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডান গোলার্ধ নিয়ন্ত্রণ করে বাম দিককে। ভাষা শিক্ষা, যুক্তি এবং সূক্ষ্ম মোটর স্কিল (যেমন লেখা বা কোনো সরঞ্জাম ব্যবহার করা) মূলত বাম মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যেহেতু বাম মস্তিষ্ক বেশি সক্রিয়, তাই মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই ডান হাত এবং ডান পায়ের ব্যবহারে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

লক্ষ লক্ষ বছর আগে যখন মানুষের পূর্বপুরুষরা চার পায়ে হাঁটা ছেড়ে দুই পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে শুরু করল, তখন থেকেই পায়ের কাজের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম বিভাজন তৈরি হলো। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে, হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় আমাদের একটি পা মূলত ‘স্থিতিশীলতা’ (Stability) বা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার কাজ করে এবং অন্য পাটি ‘গতিশীলতা’ (Mobility) বা এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়।

অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বাম পাটি মাটিতে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থেকে শরীরকে ধরে রাখতে (Supporting Leg) সাহায্য করে এবং ডান পাটি প্রথম পদক্ষেপ নিতে বা লাথি মারতে (Leading Leg) ব্যবহৃত হয়। এই দুই পায়ের সমন্বয়ই আমাদের সোজা হয়ে নিখুঁতভাবে হাঁটতে সাহায্য করেছে। যদি দুই পা-ই হুবহু একই রকম কাজ করত, তবে মানুষ হয়তো এত দ্রুত এবং মসৃণভাবে দৌড়াতে বা দিক পরিবর্তন করতে পারত না।

খেলাধুলা এবং দৈনন্দিন জীবনে এর প্রমাণ

আমরা অবচেতনভাবেই আমাদের প্রভাবশালী পা-টি বেছে নিই। ফুটবল খেলার সময় একজন খেলোয়াড় কোন পায়ে বল শট করছেন, কিংবা সিঁড়িতে ওঠার সময় কোন পা আগে বাড়াচ্ছেন—তা লক্ষ্য করলেই এটি স্পষ্ট হয়ে যায়। এমনকি যারা বাঁহাতি, তাঁদের মধ্যেও একটা বড় অংশ ডান পা দিয়ে প্রাথমিক কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। বিবর্তনের এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই আদিম যুগে মানুষ শিকার করার সময় বা বন্য পশুর হাত থেকে বাঁচার জন্য দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছিল।

মানুষের ডানহাতি বা ডানপায়ো হওয়ার এই বৈশিষ্ট্যটি কেবল একটি সাধারণ অভ্যাস নয়, এটি আমাদের টিকে থাকার লড়াই এবং বিবর্তনের এক অনন্য ফসল। হাতের দক্ষতা আমাদের প্রযুক্তি তৈরি করতে শিখিয়েছে, আর পায়ের এই সুনির্দিষ্ট বিবর্তন আমাদের এই পৃথিবীতে সোজা হয়ে হেঁটে চলার ক্ষমতা দিয়েছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe