Manipur Latest Update: মণিপুরে জঙ্গি দমন অভিযানে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। রবিবার ইম্ফল পূর্ব জেলার ওয়াখা চিং এলাকায় চালানো এক যৌথ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ২৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি, ম্যাগাজিন এবং বিস্ফোরক। গোপন সূত্রে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের গতিবিধির খবর পাওয়ার পরই এই অভিযান চালানো হয়। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, তবে অভিযুক্তদের খোঁজে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য আসে যে, ইম্ফল পূর্ব জেলার ওয়াখা চিং এলাকায় কিছু সশস্ত্র দুষ্কৃতী অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে এবং তাদের গতিবিধিও সন্দেহজনক। সেই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত যৌথ অভিযান শুরু করে মণিপুর পুলিশের স্পেশাল কমান্ডো ইউনিট (খাবেইসোই) এবং ষষ্ঠ ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের (আইআরবি) জওয়ানরা।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন ষষ্ঠ আইআরবি-র কমান্ড্যান্ট এবং স্পেশাল কমান্ডো ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ড. এস. ইবোমচা সিং। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্পেশাল কমান্ডো (সিডিও) ইউনিটের অফিসার-ইন-চার্জ সুবেদার এল. বিবেকানন্দ সিং। নিরাপত্তা বাহিনী প্রথমে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে, তারপর ধাপে ধাপে জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি শুরু করে।
তল্লাশির সময় ওয়াখা পাহাড়ের জঙ্গলে, শেল্লোই লাংমাই কম্পোজিট ফার্মের বিপরীত দিক থেকে চারটি প্লাস্টিকের ব্যাগ উদ্ধার হয়। সেই ব্যাগগুলির ভিতর থেকেই উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন, গুলি এবং বিস্ফোরক। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রভাণ্ডার দেখে নিরাপত্তা বাহিনীর আধিকারিকরাও বিস্মিত হন।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি সেলফ-লোডিং রাইফেল (এসএলআর), দুটি স্ট্রেট বাটযুক্ত ইনসাস রাইফেল, দুটি ফোল্ডিং বাটযুক্ত ইনসাস রাইফেল, দুটি একে ঘটক রাইফেল, একটি ইনসাস লাইট মেশিনগান (এলএমজি), ছয়টি .৩০৩ রাইফেল, তিনটি ডাবল-ব্যারেল ব্রিচ-লোডিং (ডিবিবিএল) বন্দুক, সাতটি সিঙ্গল-ব্যারেল ব্রিচ-লোডিং (এসবিবিএল) বন্দুক এবং একটি পাম্প-অ্যাকশন গান।
{{/usCountry}}উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি সেলফ-লোডিং রাইফেল (এসএলআর), দুটি স্ট্রেট বাটযুক্ত ইনসাস রাইফেল, দুটি ফোল্ডিং বাটযুক্ত ইনসাস রাইফেল, দুটি একে ঘটক রাইফেল, একটি ইনসাস লাইট মেশিনগান (এলএমজি), ছয়টি .৩০৩ রাইফেল, তিনটি ডাবল-ব্যারেল ব্রিচ-লোডিং (ডিবিবিএল) বন্দুক, সাতটি সিঙ্গল-ব্যারেল ব্রিচ-লোডিং (এসবিবিএল) বন্দুক এবং একটি পাম্প-অ্যাকশন গান।
{{/usCountry}}অস্ত্রের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি লাথোদ বোমা, .৩০৩ ক্যালিবারের ৫৩০ রাউন্ড তাজা গুলি, ৭.৬২ মিলিমিটার এসএলআর-এর ৬৪ রাউন্ড গুলি, ইনসাস রাইফেলের ১৯ রাউন্ড গুলি, ৫.৫৬ মিলিমিটার কারবাইনের ছয় রাউন্ড গুলি, ৪০টি ড্রিল কার্টিজ এবং .৩০৩ রাইফেলের ১৭টি চার্জার বা ম্যাগাজিন।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সমস্ত অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরক সংশ্লিষ্ট থানায় জমা করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা না গেলেও, কারা এই বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার জঙ্গলে লুকিয়ে রেখেছিল এবং এর পিছনে কোন জঙ্গি সংগঠনের যোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ভবিষ্যতে নাশকতার উদ্দেশ্যেই এই অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল। তাই গোটা এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং দায়ীদের খুঁজে বের করতে লাগাতার তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে।