জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে নারকীয় সন্ত্রাসী হানার এক বছর পার হয়েছে। তবে পাকিস্তানী জঙ্গি শিবিরের সেই হামলার ক্ষত আজও বুকে নিয়ে বেড়াচ্ছে ভারত। পহেলগাঁওরে অভিশপ্ত স্মৃতি স্মরণ করে গত ২২ এপ্রিল, আমেরিকায় ভারতীয় দূতাবাসে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন বহু মার্কিনি। তাঁদেরই মধ্যে অন্যতম সিনিয়র এক মার্কিনি কংগ্রেসের সদস্য ব্র্যাড শেরমন কার্যত পাকিস্তানকে ধুইয়ে দেন! পাকিস্তানের বুকে লালিত, পালিত হওয়া সন্ত্রাসী শিবির লস্কর ই তৈবা নিয়ে এদিন সরব হন মার্কিনি ওই কংগ্রেস সদস্য।

পহেলগাঁওতে পাকিস্তানি সন্ত্রাসের নারকীয় সক্রিয়তার পর ভারতের তরফে পাল্টা পাকিস্তানের বুকে একের পর এক সন্ত্রাসী শিবির ভেঙে দেওয়া হয়। দুই দেশের সেই সময়ের সংঘর্ষের পর আসে সংঘর্ষ বিরতি। সেই সময় থেকেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সখ্যতা বহুবারই খবরের শিরোনাম কেড়েছে। মুুনির এযাবৎকালে মার্কিন সফরও করেছেন। সদ্য ইরান যুদ্ধের মধ্যস্থতা নিয়ে ফোনে দুজনের মধ্যে কথাও হয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের যখন সখ্যতা তুঙ্গে, ঠিক তখনই আমেরিকার বুকে ভারতীয় দূতাবাসের অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মার্কিনি সাংসদ (কংগ্রেসের সদস্য) ব্র্যাড শেরমন, পাকিস্তানকে সন্ত্রাস ইস্যুতে তুলোধনা করেন! তিনি বলেন, ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট নামে পরিচিত হামলাকারীরা নিরীহ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানায় এবং জানা গিয়েছে, তারা ভুক্তভোগীদের ধর্ম অনুযায়ী আলাদা করে। এই গোষ্ঠীটিকে লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়, যেটি পাকিস্তানে আশ্রয় পেয়েছে।’ ডেমোক্র্যাট এই নেতা বলছেন, ‘এই মুহূর্তটিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের অবশ্যই পাকিস্তান সরকারের কাছে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাতে হবে।’
এই অনুষ্ঠানটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয় যখন পাকিস্তান সাত সপ্তাহব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে শান্তিস্থাপক হিসেবে তুলে ধরছে।
{{/usCountry}}এই অনুষ্ঠানটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয় যখন পাকিস্তান সাত সপ্তাহব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে শান্তিস্থাপক হিসেবে তুলে ধরছে।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, আমেরিকায় ভারতীয় দূতাবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতারা উপস্থিত ছিলেন। সন্ত্রাস ইস্যুতে আমেরিকায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় কাওত্র বলেন, ‘এই বিশেষ প্রদর্শনীটি মূলত আমাদের কয়েকটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রথমত, মানবতার উপর সন্ত্রাসের অভিশাপ আমাদের সমাজকে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। বিশ্বজুড়ে দেশগুলোকে সন্ত্রাসবাদকে পরাজিত করার জন্য একত্রিত হতে হবে এবং দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ থাকতে হবে।’