...
...
Next Story

শেয়ার বাজারে ধস! ১০০০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স, উধাও বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৯ লাখ কোটি

বৃহস্পতিবার দুপুর দুটো নাগাদ সেনসেক্স এক হাজার পয়েন্টেরও বেশি পড়ে যায়। নিফটিরও পতন দেখা যায় প্রায় ৪০০ পয়েন্ট। বাজারের এমন দ্রুত পতনে বিপুল পরিমাণ সম্পদ কার্যত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়।

Published on: Oct 1, 2026, 14:47:34 IST
Advertisement

শেয়ার বাজারে ফের বড় ধাক্কা। অক্টোবরের প্রথম দিনেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়াল উদ্বেগ। বৃহস্পতিবার লেনদেন চলাকালীন এক হাজার পয়েন্টেরও বেশি নেমে গেল সেনসেক্স। একই সময়ে ২২ হাজার ৩০০ এর নীচে চলে গেল নিফটি। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রি, আমেরিকার বন্ডের সুদ বৃদ্ধি, টাকার দাম পড়ে যাওয়া এবং অপরিশোধিত তেলের দামের অনিশ্চয়তা মিলিয়েই বাজারে এই প্রবল বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

A screen displays a message of the National Stock Exchange (NSE) listing ceremony at the Bombay Stock Exchange (BSE) in Mumbai, India, September 24, 2026. REUTERS/Francis Mascarenhas (REUTERS)
A screen displays a message of the National Stock Exchange (NSE) listing ceremony at the Bombay Stock Exchange (BSE) in Mumbai, India, September 24, 2026. REUTERS/Francis Mascarenhas (REUTERS)

বৃহস্পতিবার দুপুর দুটো নাগাদ সেনসেক্স এক হাজার পয়েন্টেরও বেশি পড়ে যায়। নিফটিরও পতন দেখা যায় প্রায় ৪০০ পয়েন্ট। বাজারের এমন দ্রুত পতনে বিপুল পরিমাণ সম্পদ কার্যত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়। বিএসইতে নথিভুক্ত সমস্ত সংস্থার মোট বাজার মূলধন দিনের শুরুতে যেখানে ছিল প্রায় ৪৭১.৮৬ লক্ষ কোটি টাকা, দুপুর পৌনে দুটো নাগাদ তা নেমে আসে প্রায় ৪৬২.৭২ লক্ষ কোটি টাকায়। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকার বাজারমূল্য কমে যায়।

এই পতনের পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি। ৩০ সেপ্টেম্বর এক দিনেই বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি তুলে নিয়েছেন। তার আগের দিনের বিক্রির সঙ্গে হিসাব ধরলে পর পর দুদিনে বিদেশি লগ্নিকারীদের বিক্রির পরিমাণ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় বিক্রির চাপ অনেক বেড়ে গিয়েছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে টাকার দুর্বলতা। বৃহস্পতিবার ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার দর ৯৬ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে যায়। বিদেশি লগ্নিকারীদের কাছে মুদ্রার দর কমে যাওয়া বাড়তি চাপ তৈরি করে। কারণ শেয়ারে লাভ হলেও টাকা ডলারে বদলানোর সময় সেই লাভের একটি অংশ কমে যেতে পারে। ফলে বাজারে বিদেশি লগ্নিকারীদের অনাগ্রহ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তেলের বাজারের ছবিও স্বস্তিদায়ক নয়। ইরানকে ঘিরে চলা সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানির খরচও বাড়ে। এতে দেশের সংস্থাগুলির খরচ বেড়ে যেতে পারে এবং মুনাফার উপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই চিন্তাও শেয়ার বাজারের উপর প্রভাব ফেলছে।

এ দিনের পতনের পাশাপাশি বাজারে অস্থিরতাও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ছোট এবং মাঝারি মাপের সংস্থার শেয়ারে লগ্নি করা বিনিয়োগকারীদের কী ছবি, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। বাজার বিশেষজ্ঞ ঈশান লাজারাসের মতে, শুধু সেনসেক্স বা নিফটির দিকে তাকিয়ে গোটা বাজারের ছবি বোঝা যায় না। তাঁর বক্তব্য, গত কয়েক বছরে বহু খুচরো বিনিয়োগকারী বড় সংস্থার তুলনায় মাঝারি এবং ছোট সংস্থার দিকে বেশি ঝুঁকেছেন। ফলে সূচকের পতনের সঙ্গে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিয়োর ক্ষতির হিসাব এক হবে না।

আরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে। গত কয়েক বছরে শেয়ার বাজারে নতুন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। অনেকেই বাজারের ভাল সময়েই বিনিয়োগ শুরু করেছেন। ফলে সূচকে বড় পতন হলে তাঁদের উপর মানসিক চাপও বেশি পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে বৃহস্পতিবারের এই ধসকে শুধু এক দিনের বাজার পতন হিসেবে দেখছে না সংশ্লিষ্ট মহল। সেপ্টেম্বর মাসেই নিফটি প্রায় ৬.১ শতাংশ এবং সেনসেক্স প্রায় ৫.৮ শতাংশ কমেছিল। একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় শেয়ার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রত্যাহার হয়েছে। ফলে নতুন মাসের শুরুতেও সেই চাপ বজায় থাকায় বিনিয়োগকারীদের নজর এখন আন্তর্জাতিক সুদ, তেলের দাম, ডলারের দর এবং বিদেশি লগ্নিকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks