...
...
Next Story

Nashik sexual harassment case: নাসিকের অফিসে যৌন হেনস্থা! ছদ্মবেশে ঢুকে বড় পর্দা ফাঁস ৭ মহিলা পুলিশকর্মীর

Nashik sexual harassment case: নয়জন অভিযোগকারীর থেকে নয়টি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে- অভিযোগকারীদের মধ্যে আটজন মহিলা এবং একজন পুরুষ।

Published on: Apr 10, 2026 09:52 PM IST
Advertisement

Nashik sexual harassment case: কর্মক্ষেত্রে হয়রানির একটি বড় ঘটনায় তোলপাড় মহারাষ্ট্রের নাসিক শহর। বছরের পর বছর ধরে নাসিকের এক বহুজাতিক সংস্থার অফিসে মহিলাদের উপর চলছিল নির্যাতন, অশালীন আচরণের মতো একাধিক ন্যাক্কারজনক ঘটনা। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। আর এই অপরাধের পর্দাফাঁস করতে সাতজন মহিলা পুলিশ কর্মী ছদ্মবেশে সেখানে গিয়ে অভিযুক্তদের হাতেনাতে পাকড়াও করেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ছদ্মবেশে ঢুকে বড় পর্দা ফাঁস ৭ মহিলা পুলিশকর্মীর (সৌজন্যে টুইটার)
ছদ্মবেশে ঢুকে বড় পর্দা ফাঁস ৭ মহিলা পুলিশকর্মীর (সৌজন্যে টুইটার)

পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনার পর্দাফাঁস করতে এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন তদন্তকারীরা। সাতজন মহিলা পুলিশ কর্মী ছদ্মবেশে ওই কোম্পানিতে ঢুকে একটি বৈঠকে অংশ নেন। সেখানেই মূল অভিযুক্তদের একজনকে মহিলা কর্মীদের সঙ্গে অসভ্য আচরণ করতে দেখে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয় বলে দাবি পুলিশের। বর্তমানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ৪০টিরও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মামলায় ওই সংস্থার ছ’জন টিমলিডার ও একজন মানবসম্পদ বিভাগের কর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো বিভিন্ন অভিযোগে মোট ন'টি আলাদা এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগকারীরা মূলত ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণী কর্মী।

অভিযোগগুলি কী কী?

নয়জন অভিযোগকারীর থেকে নয়টি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে- অভিযোগকারীদের মধ্যে আটজন মহিলা এবং একজন পুরুষ। অভিযোগে বলা হয়েছে, শুধু শারীরিক ও মানসিক হেনস্থাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, জোর করে নামাজ পড়তে বাধ্য করা এবং ধর্ম পরিবর্তনের চেষ্টা করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে, একাধিক ঘটনায় অভিযুক্তরা ভুয়ো বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেছে, অফিসের ভেতরেই অশালীন আচরণ করেছে এবং মহিলাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটূক্তি করেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একাধিকবার এইচআর, ম্যানেজার বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং অভিযোগ চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

মামলা ১ (জুলাই ২০২২-ফেব্রুয়ারি ২০২৬)

অভিযুক্ত রাজা মেমন এবং শাহরুখ কোরেশির বিরুদ্ধে একজন মহিলা কর্মীর দিকে কুদৃষ্টিতে তাকানো, তাঁকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করা এবং তার ব্যক্তিগত দাম্পত্য জীবন নিয়ে ন্যাক্কারজনক মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ সত্ত্বেও, সংস্থার প্রধান কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে অভিযুক্তদের উৎসাহিত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলা ৩ (২০২২-ফেব্রুয়ারি ২০২৬)

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শফি শেখ বৈঠকের সময় নির্যাতিতার দিকে অশ্লীলভাবে তাকিয়ে থাকতেন এবং তাকে উপহাস করতেন। একই সঙ্গে, তৌসিফ নির্যাতিতার দাম্পত্য জীবনে সন্তান না থাকা নিয়ে অত্যন্ত লজ্জাজনক মন্তব্য করতেন এবং শারীরিক সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করে তাকে অপমান করতেন।

মামলা ৪ (৪ মে ২০২৫-ডিসেম্বর ২০২৫)

অভিযুক্ত তৌসিফ আত্তার মহিলা কর্মীর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অশ্লীল প্রশ্ন করতেন এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতেন। এছাড়াও, তিনি অফিসে অন্যান্য হিন্দু সম্প্রদায়ের মহিলা কর্মীদের সামনে হিন্দু দেব-দেবী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেন বলে অভিযোগ।

পঞ্চম ঘটনা (২০২২-২৩ মার্চ ২০২৬)

অভিযুক্তরা-তৌসিফ আত্তার, দানিশ, শাহরুখ এবং রাজা মেমন-মহিলার কর্মীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে তাকে জোরপূর্বক নামাজ পড়তে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ। অভিযোগ, তাকে জোর করে আমিষ খাবার খাইয়ে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করা হয়।

ষষ্ঠ ঘটনা (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪-ফেব্রুয়ারি ২০২৬)

অভিযুক্ত আসিফ আনসারি ও শফি শেখের বিরুদ্ধে মহিলা কর্মীর শরীর সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্য এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাতেও অভিযুক্ত তৌসিফ আত্তারের বিরুদ্ধে ওই মহিলার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে।

সপ্তম ঘটনা (২০২৫-মার্চ ২০২৬)

অভিযুক্ত আসিফ আনসারি, শাহরুখ কোরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং শফি শেখের বিরুদ্ধে মহিলা কর্মীকে অনুসরণ, অশ্লীল মন্তব্য করা এবং বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্যে তাকে স্পর্শ করার অভিযোগ রয়েছে। তারা একযোগে মহিলার ধর্মের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে পরিবেশ কলুষিত করার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ।

অষ্টম ঘটনা (জানুয়ারি ২০২৫-বর্তমান)

অভিযুক্ত রাজা মেমন এবং শফি শেখ মহিলার কর্মীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত শফি তাকে জোরপূর্বক প্রস্তাব দেয়, অন্যদিকে রাজা মেমন তার শরীর নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করে এবং তাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নবম ঘটনা (জানুয়ারি ২০২৬-১ এপ্রিল ২০২৬)

অভিযুক্ত রাজা মেমন এবং শাহরুখ কোরেশি মহিলা কর্মীর সঙ্গে অশ্লীল কথাবার্তায় লিপ্ত হয় এবং অশালীন কাজকর্ম করে বলে অভিযোগ। ওই মহিলার অসম্মতি সত্ত্বেও, তারা তার ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করা, তাকে নজরে রাখা এবং তার শরীর সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্য করে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থা করে বলে অভিযোগ।

এখন কী হবে?

এই ঘটনায় পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। একজন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে এবং আরেকজন ধৃত কর্মী, যিনি অভিযোগ অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নেননি। আদালত অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্তে সিট গঠন করা হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, এর পেছনে কোনও বড় চক্র বা সংগঠিত নেটওয়ার্ক থাকতে পারে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য নারী কর্মীদের অনুরোধ করেছে, যদি কেউ একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে ভয় না পেয়ে তারা যেন অভিযোগ জানান।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe