সপ্তাহের প্রথম দিনেই ফের বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার। একের পর এক সেশনে পতনের পর সোমবারও বাজার খুলতেই বিক্রির চাপ শুরু হয়। সেনসেক্স এবং নিফটি দুটিই নিচে নেমে দিন শুরু করে। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাবের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ আরও বাড়িয়েছে উদ্বেগ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং তেলের দাম চড়ার প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বাজারে।
সোমবার সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে সেনসেক্স দাঁড়িয়েছিল ৭৩,৩৮৩.৭০ পয়েন্টে। আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৫১২ পয়েন্ট বা ০.৬৯ শতাংশ নিচে ছিল সূচক। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পতনের গতি আরও বেড়ে যায়। সকাল ৯টা ২১ মিনিটে লোকসান ৬৯০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। এর পর ৯টা ২৪ মিনিট নাগাদ সেনসেক্স প্রায় ৭০০ পয়েন্ট নিচে নেমে যায়। সাড়ে ৯টা নাগাদ পতন আরও তীব্র হয়। এক সময় প্রায় ৮৪০ পয়েন্ট বা ১.১৩ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যায় সূচক।
বাজার বিশেষজ্ঞদের নজর ছিল মূলত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে আলোচনায় অচলাবস্থার পর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্য দিকে ইরানের বক্তব্য, এই সংঘাতের সমাধান একমাত্র কূটনৈতিক পথেই সম্ভব।
মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেলের দামে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৬.৪৯ ডলারে পৌঁছেছে। চলতি মাসে এখনও পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। আমেরিকার বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ক্রুডের দামও ১.৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯৩.৮৪ ডলার প্রতি ব্যারেল। তেলের দাম বাড়লে ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। সেই আশঙ্কাও বিনিয়োগকারীদের ভাবাচ্ছে।
এর আগে টানা সাতটি সেশনে পতন হয়েছিল সেনসেক্স এবং নিফটির। এই সময় দুই সূচকই প্রায় ৬ শতাংশ করে কমেছে। ২০২০ সালের পর এমন দীর্ঘ পতনের ধারা বাজারে অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ফলে শুক্রবার সামান্য ঘুরে দাঁড়ানোর পরেও সোমবার ফের বিক্রির চাপ ফিরে এসেছে।
{{/usCountry}}এর আগে টানা সাতটি সেশনে পতন হয়েছিল সেনসেক্স এবং নিফটির। এই সময় দুই সূচকই প্রায় ৬ শতাংশ করে কমেছে। ২০২০ সালের পর এমন দীর্ঘ পতনের ধারা বাজারে অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ফলে শুক্রবার সামান্য ঘুরে দাঁড়ানোর পরেও সোমবার ফের বিক্রির চাপ ফিরে এসেছে।
{{/usCountry}}শুক্রবার অবশ্য কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল বাজার। সাম্প্রতিক পতনের পরে কম দামে ভাল সংস্থার শেয়ার কেনার প্রবণতায় সেনসেক্স ৩১৫.২০ পয়েন্ট বা ০.৪৩ শতাংশ বেড়ে ৭৩,৮৯৫.৭৪ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছিল। নিফটি উঠেছিল ৭৭.৪০ পয়েন্ট বা ০.৩৪ শতাংশ। ব্যাংক, তেল এবং গাড়ি সংস্থার শেয়ারে কেনাকাটা দেখা গিয়েছিল সে দিন।
কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টানা বিক্রি বাজারের উপর চাপ বজায় রেখেছে। শুক্রবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ৩,৬৯৪ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে এখনও পর্যন্ত তাঁদের বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট বিক্রি পৌঁছেছে প্রায় ২৫.৮৬ বিলিয়ন ডলারে।
সব মিলিয়ে সপ্তাহের শুরুতেই বাজারে ফের অনিশ্চয়তার ছবি। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, তেলের দাম, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি এবং টানা পতনের ধাক্কা সামলে সেনসেক্স এবং নিফটি কোথায় গিয়ে থামে, এখন সেটাই দেখার।