...
...
Next Story

Sheikh Hasina Latest Update: হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে 'হাত তুলে দিল' ভারত? নাকি কৌশলে ঢাকাকে শান্ত করতে চাইছে দিল্লি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ফের ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ভাবে নেবে না ভারত সরকার। ভারতীয় প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের বক্তব্য, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যাবে।

Published on: Aug 16, 2026, 12:46:22 IST
Advertisement

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি আরও জোরালো করেছে ঢাকার নতুন সরকার। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ফের ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ভাবে নেবে না ভারত সরকার। ভারতীয় প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের বক্তব্য, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যাবে। এই আবহে মোদী সরকার কি হাসিনা ইস্যুতে দায় এড়িয়ে হাত তুলে নিচ্ছে, নাকি আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলে আদতে ঢাকাকে আপাতত শান্ত করতে চাইছে?

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ফের ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। (HT_PRINT)
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ফের ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। (HT_PRINT)

অর্থাৎ, বাংলাদেশ অনুরোধ করলেই ভারত শেখ হাসিনাকে সরাসরি ঢাকার হাতে তুলে দেবে, এমন নয়। প্রথমে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ-আবেদন খতিয়ে দেখা হবে। এরপর ভারতীয় আইন এবং ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়া এগোবে। অভিযোগগুলি ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, সেটিও দেখা হবে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছে, বাংলাদেশ যে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাঠিয়েছে, তা নির্ধারিত নিয়ম মেনে পরীক্ষা করা হচ্ছে। জুলাই মাসেও বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র স্পষ্ট করেছিলেন, এই বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী দেখা হবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০১৩ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার আইনি কাঠামো রয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি এমন অপরাধে অভিযুক্ত হন যা প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে যেতে পারে।

ভারতের নিজস্ব প্রত্যর্পণ আইনেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। বিদেশ থেকে কোনও প্রত্যর্পণের অনুরোধ এলে বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা থাকতে পারে। ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন, প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে, তাহলে প্রত্যর্পণের পক্ষে সুপারিশ করা যেতে পারে। আবার অভিযোগের ভিত্তি যথেষ্ট না হলে অভিযুক্তকে মুক্তিও দেওয়া যেতে পারে।

এই কারণেই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে কি না, তার উত্তর এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত করা যাবে না। ভারতের এক আধিকারিকও জানিয়েছেন, শেষ সিদ্ধান্ত আদালতের প্রক্রিয়ার সঙ্গেই যুক্ত।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ঢাকার প্রত্যর্পণ-দাবির অন্যতম ভিত্তি এই রায়। তবে হাসিনার সমর্থকেরা ওই রায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছিল এবং আদালতের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ভারতে রয়েছেন। বর্তমানে নয়াদিল্লিতে ভারতীয় সুরক্ষায় অবস্থান করছেন বলে জানা যায়। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। আগস্টের এক ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, হাসিনার প্রত্যর্পণ শুধু আইনি বিষয় নয়। এর সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কও সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে। ঢাকা এই ইস্যুতে ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, দিল্লি একদিকে আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে এখন মূল প্রশ্ন, আদালতের সামনে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ-আবেদন গেলে কী সিদ্ধান্ত হয়। ভারত সরকার সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে না বলেই আপাতত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। তাই শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ শুধু ঢাকা বা দিল্লির রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নয়, আইনি পরীক্ষার ফলাফলের উপরও অনেকটাই নির্ভর করবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe