‘কবে বাংলাদেশ যাব, তারিখ, সময়.. নিশ্চয়ই সময় হলে জানাব’, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দিল্লিতে প্রথমবার জনসমক্ষে শোনা গেল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠ! এদিন দিল্লিতে, ফরেন করসপন্ডেন্ট ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া-র আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন শেখ হাসিনা। সেখানেই তিনি বক্তব্য রাখেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে জনতা-ছাত্র অভ্যুত্থানের জেরে সেদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। এরপর আজ ২০২৬ সালের সেই ৫ আগস্টই প্রথমবার দিল্লিতে জনসনক্ষে শোনা গেল শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বর।

‘বাংলাদেশ যখনই কঠিন অবস্থায় ছিল, তখনই বাংলাদেশকে সাহায্য করেছে ভারত। আমি বিশ্বাস করি, ভারত সেই অবস্থানেই থাকবে। ভারত বন্ধুই থাকবে।’ তাঁর বাংলাদেশ যাত্রায় তৃতীয়পক্ষের কোনও অবস্থান থাকবে কি না, তা জানতে চাইলে হাসিনা একথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্ন নেওয়ার আগে, এদিন নিজের বক্তব্যে শেখ হাসিনা ফের একবার ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের প্রসঙ্গ তোলেন। বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার কণ্ঠে তখন তাঁর পরিবারের গণহত্যার প্রসঙ্গ। এছাড়াও ২০২৪ সালের যে আন্দোলন শেখ হাসিনাকে মসনদ থেকে সরিয়েছিল, সেই আন্দোলন নিয়ে বলতে গিয়ে হাসিনা বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনটি শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ ছিল না’। তিনি অভিযোগ করেন যে, ‘সংগঠিত গোষ্ঠীগুলো‘ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোকে একটি ‘সহিংস রাজনৈতিক হাতিয়ারে‘ পরিণত করেছে এবং দাবি করেন যে, আন্দোলনটি শেষ পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়।কোটা বিষয়ক হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং আলোচনার জন্য ছাত্রনেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁর সরকার এই বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছিল, বলেও জানান হাসিনা। তিনি যুক্তি দেন যে, বিক্ষোভ যখন দেশব্যাপী সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন তাঁর নেওয়া সেই প্রচেষ্টাগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছিল।
এছাড়াও মহম্মদ ইউনুসের সরকার থেকে শুরু করে বর্তমানে বাংলাদেশের বিএনপির সরকারের বিরুদ্ধেও মুখ খোলেন শেখ হাসিনা।
{{/usCountry}}এছাড়াও মহম্মদ ইউনুসের সরকার থেকে শুরু করে বর্তমানে বাংলাদেশের বিএনপির সরকারের বিরুদ্ধেও মুখ খোলেন শেখ হাসিনা।
{{/usCountry}}এদিনের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ছাড়াও ছিলেন সেদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী মহম্মদ গিয়াসউদ্দিন, বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকা সাকিব উল হাসান, ছিলেন হাসিনাপুত্র সাজীব জয়। এদিনের অনুষ্ঠানে বারবার হাসিনার কাছে যায় তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে মতামত। হাসিনা বলেন, ‘১৯৮১ আমি যখন ফিরেছিলাম, আমাকে ধরার চেষ্টা করে, এরপর বিভিন্ন সময় আমি দেশে ফিরতে চেয়েছিলাম তখনই তারা আটকাতে চেয়েছিল। মানুষের সমর্থনই বড় বিষয়।’ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে পুত্র জয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাঁদের সঙ্গে কি বর্তমান ঢাকার রাজনৈতিক তরফে কোনও যোগাযোগ হয়েছে, জয় জানান, তারেক সরকারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয়নি।