সিকিমের নামচি জেলায় এনএইচপিসির (NHPC) তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ৭। এখনও একাধিক শ্রমিক টানেলের ভিতরে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চললেও বিষাক্ত গ্যাস, ধস এবং অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে উদ্ধারকারীরা চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন।

সোমবার দুপুরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, টানেলের প্রবেশপথ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভিতরে একটি অংশে মিথেন গ্যাস জমে ছিল। সেই গ্যাস বের করার চেষ্টা চলাকালীন বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের জেরে টানেলের ভিতরে ধস নামে এবং বেরোনোর রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বহু শ্রমিক টানেলের ভিতরে আটকে পড়েন।
দুর্ঘটনার সময় টানেলের ভিতরে মোট ৪৩ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন কোনওভাবে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে অন্তত ২৭ জন ভিতরে আটকে পড়েন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। পরে উদ্ধার অভিযান চলাকালীন সাতজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও বেশ কয়েকজন শ্রমিকের খোঁজ মেলেনি।
জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রথমে আটকে পড়া শ্রমিকের সংখ্যা কম বলে মনে হলেও উপস্থিতির খাতা এবং সংস্থার নথি খতিয়ে দেখে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা হচ্ছে। তাই উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটকে থাকা শ্রমিকের সংখ্যায় পরিবর্তন হতে পারে।
উদ্ধারকাজে শুরু থেকেই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে টানেলের ভিতরের পরিবেশ। মিথেন গ্যাসের ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি থাকায় এবং অক্সিজেনের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ায় প্রথমে দমকল বাহিনীর কর্মীরা ভিতরে ঢুকতে পারেননি। কয়েকজন উদ্ধারকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর দলও টানেলে প্রবেশের চেষ্টা করলেও ধস ও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে অভিযান এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
{{/usCountry}}উদ্ধারকাজে শুরু থেকেই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে টানেলের ভিতরের পরিবেশ। মিথেন গ্যাসের ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি থাকায় এবং অক্সিজেনের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ায় প্রথমে দমকল বাহিনীর কর্মীরা ভিতরে ঢুকতে পারেননি। কয়েকজন উদ্ধারকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর দলও টানেলে প্রবেশের চেষ্টা করলেও ধস ও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে অভিযান এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
{{/usCountry}}বর্তমানে ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসন, এনএইচপিসি, পুলিশ, এনডিআরএফ এবং অন্যান্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আধিকারিকরা উপস্থিত রয়েছেন। টানেলের ভিতরে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা উন্নত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বিশেষ যন্ত্রপাতির সাহায্যে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে নিরাপদে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান। নিখোঁজ শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে বাইরে আনার জন্য সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন ও উদ্ধারকারী বাহিনী।