ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার গত দু’বছরে আরও শক্তিশালী হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট (SIPRI)-এর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ভারতের হাতে যেখানে ১৮০টি পরমাণু অস্ত্র ছিল, ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯০। একইসঙ্গে দেশের সামরিক আধুনিকীকরণ এবং প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

SIPRI-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের ১২টি পরমাণু ওয়ারহেড যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা শূন্য ছিল বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। যদিও ভারত সরকার কখনওই নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের সঠিক সংখ্যা, ক্ষমতা বা মোতায়েন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে না। ফলে SIPRI-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার এই ধরনের রিপোর্ট মূলত অনুমান ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে ভারত ১০টি নতুন ওয়ারহেড যুক্ত করেছে। পাশাপাশি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতা এবং এমআইআরভি (MIRV) প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের পারমাণবিক আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এখন চিন। কারণ, পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেজিং দ্রুত এগিয়ে চলেছে। SIPRI-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে চিনের কাছে রয়েছে ৬২০টি ওয়ারহেড।
অন্যদিকে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারে উল্লেখযোগ্য কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের কাছে প্রায় ১৭০টি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। ভূমি, জল ও আকাশ—তিন ক্ষেত্রেই এখন পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করেছে ভারত। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতেও এসেছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। বিশেষ করে এমআইআরভি প্রযুক্তি ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক ওয়ারহেড আলাদা আলাদা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এছাড়াও অগ্নি-৫, অগ্নি-পি-সহ একাধিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সাফল্য পেয়েছে দেশ। তবে পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের নীতিগত অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশ এখনও ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতি মেনে চলে, অর্থাৎ ভারত প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না বলেই সরকারি অবস্থান। ফলে শক্তি বৃদ্ধি হলেও প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান বজায় রেখেই এগোচ্ছে নয়াদিল্লি।