ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাতের জেরে বাঙ্কারে আটকে বহু ভারতীয়। এই পরিস্থিতিতে হোলিতে দেশে ফেরার কথা থাকলেও অনেকেই তা করতে পারবেন না। ইউপি-বিহার থেকে ব্যবসা করতে বা কাজ করতে বহু মানুষ ইজরায়েল কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান। এই সব ভারতীয়রা এখন ইরানি মিসাইল হামলার ভয়ে বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে উড়ান বাতিলের কারণে সেই সব দেশে বিমানবন্দরে গিয়েও অনেকে আটকে পড়েছেন।

গোরক্ষপুরের রসুলপুরের বাসিন্দা আবদুল রেহমান দুবাই থেকে পিটিআইকে জানান, বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র দেখেছেন তিনি। তাঁর আশ্রয়স্থলের কাছাকাছি একটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়ে। তবে তাতে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বিস্ফোরণের ভয়াবহ আওয়াজ তিনি তাঁর ঘর থেকে শুনতে পারেন। সেই সময় অনেক মানুষ ক্যাম্প থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসে। আবদুলের কথায়, প্রথমবারের মতো সামনে থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ দেখেছেন তাঁরা।
এদিকে গোরক্ষপুরের সন্দীপ কুমার ২০২৪ সালের মে মাসে ইজরায়েলের এস্তোডে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, ২ মার্চ ভারতে ফেরার কথা ছিল তাঁর। তবে তাঁর উড়ানটি বাতিল করা হয়েছে। এদিকে জেরুজালেম ও পেটা টিকোয়ার মাঝামাঝি কাপ্পার কাশিমে কাজ করেন জনার্দন। তিনি জানান, রবিবার সকাল স্থানীয় সময় ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত একটানা ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। শনিবার পরিস্থিতি আরও খারাপ ছিল বলে জানান তিনি। সিদ্ধার্থনগর থেকে অর্ধ ডজন শিক্ষার্থী ধর্মীয় শিক্ষা নিতে ইরানে গেছেন। এদের সবার পরিবারই আতঙ্কিত আছেন। ভারতে থাকা পরিবার তাঁদের সন্তানদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি। সিওয়ানের ইটাহারি গ্রামের বাসিন্দা জিতেন্দ্র প্রসাদ তিন বছর পরে হোলিতে বাড়ি ফিরতে চলেছিলেন। দোহা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি দেখেন, তাঁর ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে, বিমানবন্দরের নিকটবর্তী মার্কিন সেনা বেস ক্যাম্পে ২৫ জন যুবককে রাখা হয়েছে।
এদিকে কুশিনগরের বাসিন্দা নন্দলাল বিশ্বকর্মা বর্তমানে জেরুজালেমের পশ্চিম তীর অঞ্চলে রয়েছেন। তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর। মাঝে মাঝে সাইরেন বাজছে এবং লোকেরা তাদের নিকটবর্তী বাঙ্কারে ছুটে যাচ্ছেন। নন্দলাল বলেন, ইরানিরা শব্বাতের সময় টার্গেট করেছে। শুক্রবার সূর্যাস্ত থেকে শনিবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলে ইহুদিদের এই পবিত্র ধর্মীয় সাপ্তাহিক আচার-অনুষ্ঠান। এদিকে ইরানি হামলার জেরে ইজরায়েলের বেশিরভাগ স্থানেই গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে।
{{/usCountry}}এদিকে কুশিনগরের বাসিন্দা নন্দলাল বিশ্বকর্মা বর্তমানে জেরুজালেমের পশ্চিম তীর অঞ্চলে রয়েছেন। তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর। মাঝে মাঝে সাইরেন বাজছে এবং লোকেরা তাদের নিকটবর্তী বাঙ্কারে ছুটে যাচ্ছেন। নন্দলাল বলেন, ইরানিরা শব্বাতের সময় টার্গেট করেছে। শুক্রবার সূর্যাস্ত থেকে শনিবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলে ইহুদিদের এই পবিত্র ধর্মীয় সাপ্তাহিক আচার-অনুষ্ঠান। এদিকে ইরানি হামলার জেরে ইজরায়েলের বেশিরভাগ স্থানেই গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, ইরানে প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় নাগরিক বসবাস করছেন এবং ৪০ হাজারেরও বেশি ভারতীয় নাগরিক ইজরায়েলে বসবাস করেন। পশ্চিম এশিয়া এবং উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই অঞ্চলে ভারতীয় দূতাবাসগুলি তাদের নাগরিকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং হেল্পলাইনগুলি সক্রিয় করা হয়েছে।