লোকসভা ভোটে আমেঠি আসন থেকে পরাজয়ের পর জাতীয় রাজনীতিতে স্মৃতি ইরানির পরবর্তী ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই আলোচনা চলছে। এ বার সেই জল্পনায় নতুন মাত্রা। উত্তরপ্রদেশ থেকে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর কথা ভাবছে বিজেপি। তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে দলের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। বিজেপির অন্দরে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে বলেই খবর।

উত্তরপ্রদেশে রাজ্যসভার ১০টি আসনের নির্বাচন সামনে। আগামী ১৬ অক্টোবর ভোট হওয়ার কথা। এই ১০টি আসনের মধ্যে বর্তমানে আটটি বিজেপির দখলে। একটি করে আসন রয়েছে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টির হাতে। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। ফলে প্রার্থী বাছাই নিয়ে এখন থেকেই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
বিজেপির অন্দরের খবর, এ বার উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় একাধিক নতুন মুখকে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সম্ভাব্য তালিকায় স্মৃতি ইরানির নামও রয়েছে। একই সঙ্গে দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হরিশ দ্বিবেদীকেও রাজ্যসভায় পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। কয়েক জন বর্তমান সাংসদের নাম আবার প্রার্থী তালিকায় থাকবে কি না, তা নিয়েও দলের মধ্যে আলোচনা চলছে।
স্মৃতি ইরানির ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আমেঠি থেকে হেরে যাওয়ার পর তিনি আর সংসদের কোনও কক্ষের সদস্য নন। সেই সময় কংগ্রেসের কিশোরী লাল শর্মার কাছে পরাজিত হন তিনি। পরে বিজেপির সাংগঠনিক কাজে তাঁর ভূমিকা বজায় থাকে। এ বছরের অগস্টে বিজেপির নতুন জাতীয় দলে তাঁকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দলের সাংগঠনিক কাজেও সাম্প্রতিক সময়ে স্মৃতি ইরানির দায়িত্ব বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিজেপি তাঁকে হরিয়ানা এবং ছত্তীসগঢ়ের দায়িত্ব দিয়েছে। অর্থাৎ দলীয় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাঁকে সক্রিয় রাখা হয়েছে। এর মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সম্ভাবনার খবর সামনে আসায় তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}দলের সাংগঠনিক কাজেও সাম্প্রতিক সময়ে স্মৃতি ইরানির দায়িত্ব বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিজেপি তাঁকে হরিয়ানা এবং ছত্তীসগঢ়ের দায়িত্ব দিয়েছে। অর্থাৎ দলীয় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাঁকে সক্রিয় রাখা হয়েছে। এর মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সম্ভাবনার খবর সামনে আসায় তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}কেন উত্তরপ্রদেশ থেকেই স্মৃতি ইরানিকে রাজ্যসভায় পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে, তার কয়েকটি কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। একটি কারণ মহিলা প্রতিনিধিত্ব। দ্বিতীয়ত, উত্তরপ্রদেশে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিচিত এবং জাতীয় স্তরের নেতাদের ব্যবহার করতে চাইছে বিজেপি। যদিও এগুলি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, দলের তরফে এমন কোনও কারণ আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি।
এর পাশাপাশি রাজ্যসভার অঙ্কও বিজেপির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় বিজেপি এবং তার শরিকদের মিলিয়ে ২৮৮ জন বিধায়ক রয়েছে। সপা এবং কংগ্রেস শিবিরের হাতে রয়েছে প্রায় ১০৩ জন। এই সংখ্যার ভিত্তিতে আসন্ন রাজ্যসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারেন। তবে চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে ভোটের সময়কার সমীকরণ এবং প্রার্থী তালিকার উপর।
সব মিলিয়ে, আমেঠিতে পরাজয়ের পর স্মৃতি ইরানির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, রাজ্যসভায় যাওয়ার সম্ভাবনা সেই আলোচনাকে ফের সামনে এনেছে। তবে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে উত্তরপ্রদেশ থেকে তাঁকেই প্রার্থী করবে বিজেপি। প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।