দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসা পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে ঘিরে শনিবার নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, অনশন মঞ্চে ওয়াংচুককে লক্ষ্য করে একটি বস্তু ছোড়া হয়। যদিও সেই ঘটনায় তিনি আহত হননি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দিল্লি পুলিশ তাঁকে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে এই পদক্ষেপকে ‘জোরপূর্বক’ বলে দাবি করেছে সিজেপি এবং আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (X) একাধিক পোস্ট করে অভিজিৎ দীপকে দাবি করেন, যন্তর মন্তরে কিছু দুষ্কৃতী এসে আন্দোলন ভণ্ডুল করার চেষ্টা করে। তাঁর অভিযোগ, সেই সময়ই সোনম ওয়াংচুককে লক্ষ্য করে একটি বস্তু ছোড়া হয়। তবে সেটি তাঁর গায়ে লাগেনি এবং তিনি অক্ষত রয়েছেন। দীপকের আরও দাবি, কয়েক দিন আগেই তিনি একটি ‘পুলিশ সূত্র’-কে উদ্ধৃত করে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে আন্দোলন ভাঙতে কিছু লোককে পাঠানো হতে পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যদি সোনম ওয়াংচুকের কোনও ক্ষতি হয়, তবে তার জন্য সরকারকেই দায়ী করতে হবে। তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ জোর করে সোনম ওয়াংচুককে আন্দোলনস্থল থেকে তুলে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে আরও তিনজন অনশনকারীকেও সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস দাবি করেন, পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর বলপ্রয়োগ করেছে এবং ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জও করা হয়েছে।
অভিজিৎ দীপকেও অভিযোগ করেন, তাঁকে মারধর করে পুলিশ আটক করেছে। এক্স-এ করা পোস্টে তিনি লেখেন, দিল্লি পুলিশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের উপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে এবং তাঁকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। নয়াদিল্লি জেলার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) সচিন শর্মা জানান, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁকে অত্যাবশ্যক চিকিৎসার জন্য সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
{{/usCountry}}অভিজিৎ দীপকেও অভিযোগ করেন, তাঁকে মারধর করে পুলিশ আটক করেছে। এক্স-এ করা পোস্টে তিনি লেখেন, দিল্লি পুলিশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের উপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে এবং তাঁকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। নয়াদিল্লি জেলার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) সচিন শর্মা জানান, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁকে অত্যাবশ্যক চিকিৎসার জন্য সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
{{/usCountry}}ডিসিপি আরও জানান, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে কিছু আন্দোলনকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই কারণে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়ে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তর ছেড়ে চলে যাওয়ার আবেদনও জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, শনিবার সোনম ওয়াংচুকের অনশন ২১ দিনে পড়ে। দীর্ঘ অনশনের জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে আগেই জানা গিয়েছিল। শুক্রবার তিনি নিজেই জানান, দীর্ঘ অনশনের ফলে শরীরের প্রায় ২০ শতাংশ ওজন কমে গিয়েছে। তাঁর কথায়, প্রথমে শরীরের চর্বি, তারপর পেশি ক্ষয় হচ্ছে, এরপর অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর প্রভাব পড়তে পারে। তবুও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি অনড় ছিলেন।
গত ১৩ জুলাই চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তাঁর মাথা ঘোরা, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত মিলেছিল। যদিও সেই সময় তাঁর রক্তচাপ, অক্সিজেনের মাত্রা এবং নাড়ির গতি স্থিতিশীল ছিল। প্রসঙ্গত, পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস এবং ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যার ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু হয়। ২৮ জুন সেই আন্দোলনে যোগ দেন সোনম ওয়াংচুক এবং তারপর থেকেই তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশনে ছিলেন। আগামী ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে দেশবাসীকে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
তবে যন্তর মন্তরের ঘটনাকে ঘিরে যে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে, তার স্বাধীন যাচাই এখনও হয়নি। একদিকে আন্দোলনকারীরা বলপ্রয়োগ, হামলা ও দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলছেন, অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ আদালতের নির্দেশ মেনেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার স্বার্থে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। ফলে গোটা ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।