...
...
Next Story

Jantar Mantar protest: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের চেয়েও ছাত্র সুরক্ষায় জোর! অনশন প্রত্যাহারের নেপথ্য শর্ত জানালেন ওয়াংচুক

Jantar Mantar protest: সোনম ওয়াংচুক জানান, আলোচনার সময় তাঁর সম্পূর্ণ নজর গিয়ে পড়েছিল আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষার দিকে; যাতে তাদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা বা কোনও ধরনের আইনি হেনস্থা না করা হয়।

Published on: Sep 1, 2026, 23:49:11 IST
Advertisement

Jantar Mantar protest: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নিজের অবস্থান শিথিল করেছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকের নেপথ্য কারণ তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিবাদী পড়ুয়াদের যেন কোনও ধরনের আইনি হয়রানির শিকার না হতে হয়-তা নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর অনশন ভাঙার একমাত্র 'আপসহীন শর্ত' (non-negotiable condition)।

অনশন প্রত্যাহারের নেপথ্য শর্ত জানালেন সোনম ওয়াংচুক (REUTERS)
অনশন প্রত্যাহারের নেপথ্য শর্ত জানালেন সোনম ওয়াংচুক (REUTERS)

প্রখর গুপ্তর 'পিজিএক্স' (PGX) পডকাস্টে অংশ নিয়ে সোনম ওয়াংচুক জানান, গত ২২ জুলাইয়ের মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি তাঁর কাছে আর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল না। কারণ, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অন্যান্য শহরেও হিংসা ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ওয়াংচুক বলেন, '২২ তারিখের মধ্যে আমি পদত্যাগকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখিনি। কারণ এই একটানা দাবির ফলে যে ক্ষতি হচ্ছিল, সেটাও আমি মাথায় রাখছিলাম।' তিনি ভেবেছিলেন যে পদত্যাগের বিষয়টি হয়তো পরবর্তীতেও হতে পারে, কারণ অন্যান্য পক্ষও একই দাবি জানাচ্ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি ভাবতে শুরু করেছিলাম যে পদত্যাগ হয়তো হয়েই যাবে, কারণ এটা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। হয়তো সরকারের মাথায় এখনই পদত্যাগের ভাবনা ছিল না। তখন না হলেও দু-চার দিন পরেও হতে পারত, তাছাড়া আরও অনেকেই এই দাবি তুলছিল।'

আইনি হয়রানি বন্ধ করাই ছিল আপসহীন শর্ত

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে লাদাখের হিংসার পর নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই এই শর্তটি ওয়াংচুকের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এক বছর পরেও সেখানে ৮০টিরও বেশি মামলা ঝুলছে এবং যারা হিংসা থামানোর চেষ্টা করেছিলেন তাঁদেরই জেলে ভরা হয়েছিল। দিল্লির ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করেও যাতে তেমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই আশঙ্কাই করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক।

মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে না

আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমে কেবল মৌখিক আশ্বাস দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দিয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতির দাবিতেই অনড় ছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বিষয়টি স্মরণ করে ওয়াংচুক জানান, 'আমি স্পষ্ট বলেছিলাম—যা-ই হোক না কেন, তা লিখিত হতে হবে। মুখে বলে পরবর্তীতে কথার কোনও দাম থাকে না। আমি একটি লিখিত স্বাক্ষর চাই যে, যেসব ছাত্রছাত্রী তাদের মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করবে, তাদের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর বা আইনি হয়রানি করা হবে না।' তিনি জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে ২৩ জুলাই রাত প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁকে জানানো হয় যে আন্দোলনকারীদের সুরক্ষার বিষয়টি লিখিতভাবে দিতে সম্মত হয়েছে সরকার। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পরই এই সমঝোতার পথ তৈরি হয়।

ওয়াংচুক জানান, ২১ জুলাই রাতে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রথমে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন এবং অনশন প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান। সেই পর্যায়ে ওয়াংচুকের প্রাথমিক দাবিগুলির মধ্যে ছিল পদত্যাগের মাধ্যমে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে সংসদে আলোচনা করা। পরবর্তীতে তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের কিংবা হেনস্থা বন্ধ করার শর্তটি যুক্ত করেন।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe